প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরবিচ্ছিন্ন জ¦ালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একইসাথে নবায়ন জ¦ালানি বা সৌর বিদ্যুত ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারী সহায়তা চান তারা। এসময় প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমদু চৌধুরী। দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গতকাল শনিবার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তার কথা বলেন তারা। এছাড়া ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের নানা সমস্যার কথা শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুপুরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফটকে সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে ব্রিফ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ব্যবসায়ীরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালুর দাবি জানিয়েছেন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের ঝামেলা ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে বাংলাদেশে আসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, এনবিআর সংস্কার এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমির খসরু বলেন, মাঝারি উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্যে গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে আমির খসরু আরও জানান, বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের নানান সংকটের কথা বিগত দিনে আমরা শুনে এসেছি, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের মুখ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছিলেন। তাদের কথাগুলোর একটা নোট নেওয়া হয়েছে। অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে, অনেক পেন্ডিং আছে, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা হচ্ছে, সংকট আছে, সেগুলো দূর করার বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা তাদের কথা বলেছেন। অনেক কিছুর সমাধান হয়েছে। আবার অনেক কিছু পেন্ডিং আছে, সেগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, এগুলো কীভাবে চালু করা যায়, সরকারি কারখানা যেগুলো বন্ধ হয়েছে, সেগুলো কীভাবে আবার শুরু করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সার্বিকভাবে নতুন প্রকল্পের বাইরে যেসব পুরনো প্রকল্প বন্ধ হয়ে আছে, এগুলো চালু করার জন্য আলোচনা হয়েছে এবং এগুলার সমাধান দিয়ে আমরা আশা করি অনেক প্রকল্প চালু করা হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে প্রস্তাবনায় অন্যান্য দেশের প্রমাণভিত্তিক আইনগত, নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক দৃষ্টান্ত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন : এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন। এ পরিষদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ব্যবসা পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সংস্কারের অগ্রাধিকার নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি মতামত দিতে পারবেন।

গতকাল বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে প্রস্তাবনায় অন্যান্য দেশের প্রমাণভিত্তিক আইনগত, নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক দৃষ্টান্ত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

পরিষদের সদস্যরা সরকারি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রস্তাবনায় ব্যবসায়িক পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন দেশের সংস্কার ও বিনিয়োগ এজেন্ডাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ধারাবাহিক ও কাঠামোবদ্ধ মতামত দেয়ার একটি কার্যকর ব্যবস্থা এটি।

প্রধান অতিথির সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং বিডার নির্বাহীর চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

এছাড়া পরিষদের সদস্যরা হলেন ড. আরিফ দৌলা (এসিআই পিএলসি), সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর (এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড), হাফিজুর রহমান খান (রানার গ্রুপ), আহসান খান চৌধুরী (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ), জিয়াউর রহমান (বে গ্রুপ), আবদুল মুকতাদির (ইনসেপ্টা গ্রুপ), মো. আব্দুল জাব্বার (ডিবিএল গ্রুপ), সোহানা রউফ চৌধুরী (র‌্যাংগস গ্রুপ) এবং সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর (প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ)।

উল্লেখ্য, সরকারপক্ষ থেকে সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে বিডা কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করা হবে।