- একজন শত্রুও যেন জীবিত না ফেরে
- ভাষণের তীব্র সমালোচনায় সিনেটর
- তেলের দামে বড় লাফ
ইরান এবং হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন ও রকেট হামলা পশ্চিম এশিাজুড়ে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরাইলী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানী সেনাপ্রধান কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন একজন শত্রুও যেন জীবিত না ফেরে। এদিকে ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার পর পরই ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আর ভাষণের ওপর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন সিনেটর সংখ্যালঘু ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার বলেছেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। আল-জাজিরা, বিবিসি, এএফপি, দ্য টাইমস।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনের আঘাতে মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
পশ্চিম এশিয়া জুড়ে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটির ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র 'দ্য টাইমস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন বাহিনী কোনো অনিয়মিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর পরিবর্তে একটি পূর্ণ শক্তিশালী রাষ্ট্রের মোকাবিলা করছে, যার পরিণতি হচ্ছে অত্যন্ত মারাত্মক। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে থাকা অত্যন্ত মূল্যবান 'ই-থ্রি সেন্টিরি অ্যাওয়াক্স' রাডার বিমানসহ অসংখ্য উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিশেষ করে ইরানের তৈরি 'শাহেদ-১৩৬' ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে বারবার আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন বাহিনী এই গণড্রোন হামলার সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন সরবরাহ করায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস ছাড়াও কাতারের উম্ম দাহাল এলাকায় অবস্থিত ১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি রাডার ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিও ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইরানের একটি রাজনৈতিক-নিরাপত্তা সূত্র আল মায়াদিনকে জানিয়েছে, তেহরান পর্যায়ক্রমে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তাদের কৌশলগত লক্ষ্য হলো শত্রুর রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া এবং এই অভিযান লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তেহরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের হাতে থাকা বিশাল ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার যেকোনো সময় শত্রুপক্ষকে অবাক করে দিতে প্রস্তুত।
ইসরাইলী বাহিনীর ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ইসরাইলি বাহিনীর ওপর রকেট ও ড্রোন হামলার খবর জানিয়েছে লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে লেবাননের মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা রকেট হামলা চালান। কাছাকাছি সময়ে লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরাইলী বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। এসব হামলার বিষয়ে ইসরাইলী বাহিনী এখনও কিছু জানায়নি। এদিকে ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শত্রু পক্ষ যদি ইরানের মাটিতে কোনো ধরনের ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ বা স্থল অভিযান চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে একজন আক্রমণকারীকেও জীবিত ফিরতে দেওয়া হবে না। দেশের সকল কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারের সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক অনলাইন ভাষণে তিনি এই ‘নো কোয়ার্টার’ (কাউকে রেহাই না দেওয়া) নীতি ঘোষণা করেন। আল জাজিরা ,বিবিসি।
মেজর জেনারেল হাতামি স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ প্রতি মুহূর্তে বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী রক্ষণাত্মক এবং আক্রমণাত্মক উভয় ক্ষেত্রেই পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য দেশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ সরিয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য যেখানে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানকে নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তার কড়া সমালোচনা করেন হাতামি।
একজন শত্রুও যেন জীবিত না ফেরে ইরানি সেনাপ্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি
মহা-সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শত্রু পক্ষ যদি ইরানের মাটিতে কোনো ধরনের ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ বা স্থল অভিযান চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে একজন আক্রমণকারীকেও জীবিত ফিরতে দেওয়া হবে না। দেশের সকল কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারের সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক অনলাইন ভাষণে তিনি এই ‘নো কোয়ার্টার’ (কাউকে রেহাই না দেওয়া) নীতি ঘোষণা করেন।
মেজর জেনারেল হাতামি স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ প্রতি মুহূর্তে বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী রক্ষণাত্মক এবং আক্রমণাত্মক উভয় ক্ষেত্রেই পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য দেশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ সরিয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য যেখানে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী ইরানকে নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার কড়া সমালোচনা করেন হাতামি। তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে মার্কিন-ইসরাইলী জোটের আসল উদ্দেশ্য হলো ইরানের নাম ও অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা। কিন্তু ইরানের জনগণ ও সেনাবাহিনী তাদের এই নীল নকশা সফল হতে দেবে না। সেনাপ্রধান হাতামি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে 'সবই ইরানের জন্য'- এই নীতিতে অটল থেকে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে সেনাবাহিনী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানিরা অনিরাপদ থাকলে শত্রুপক্ষকেও কোথাও নিরাপদ থাকতে দেওয়া হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই ‘মরো অথবা মারো’ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে এক রক্তক্ষয়ী স্থল যুদ্ধ।
ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হতেই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী টেলিগ্রামে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। এ হুমকি প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি চূর্ণ হয়েছে। এমন দাবির পরই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণের তীব্র সমালোচনায় সিনেটর চাক শুমার
ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ভাষণটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।’ নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট সিনেটর আরও বলেন, ট্রাম্প লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। সাধারণ আমেরিকানদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো উপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান দলীয় সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই ভাষণটিকে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—চুক্তি করা অথবা আরও বোমা হামলার মুখোমুখি হওয়া। গ্রাহাম আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা ধীরে ধীরে ইরানের বর্তমান শাসকদের টিকে থাকার সক্ষমতা শেষ করে দেবে।
অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীনের
ইরানে যুদ্ধরত সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে চীন। আগামী সপ্তাহগুলোতে ইরানে আরও বড় পরিসরে হামলা চালানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর এই আহ্বান জানালো চীন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বিদ্যমান অস্থিরতার মূল কারণ হলো, এ জলপথে ‘অবৈধ’ সামরিক কার্যকলাপ।
তিনি আরও বলেন, বিবদমান পক্ষগুলোকে অবশ্যই বিশ্ব অর্থনীতি আর জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর আরও গুরুতর প্রভাব এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। দেশটি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব জালানি পরিহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
তেহরানে শতাব্দী প্রাচীন চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে শতাব্দী প্রাচীন একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, এই হামলায় পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রটি ১৯২০ সালে চালু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হোসেইন কেরমানপুর একে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের শতাব্দী পুরানো স্তম্ভে হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তেহরানে ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের মেয়রের মুখপাত্র আব্দুলমোহর মোহাম্মদখানি এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এসব বাড়িতে ছোটখাটো মেরামত যেমন ‘কাঁচ, দরজা ও জানালা ঠিক করা’ থেকে শুরু করে ‘বড় ধরনের পুনর্র্নিমাণ বা সম্পূর্ণ সংস্কার’ করার দরকার হতে পারে। আব্দুলমোহর মোহাম্মদখানি আরও জানান, হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িতে নানা সমস্যা দেখা দেওয়ায় এক হাজার ৮৬৯টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছেন। এছাড়া আরও প্রায় এক হাজার ২৪৫টি পরিবারকে ২৩টি আবাসিক কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগ বা আর্থিক সহায়তায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি বাড়িতে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। দেশটি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব জালানি পরিহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি এবং এটি খুব দ্রুতই শেষ হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি।
যদিও তিনি দাবি করেছেন যে, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই হামলা অব্যাহত রাখলে তেলের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জানা যায়, তেলের দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলাকে। বুধবার কাতারি জলসীমায় ‘কাতারএনার্জি’র লিজ নেওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের হামলার ফলে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি বাড়ছে, যা বাজারের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সচদেবা জানান, ট্রাম্পের ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক তৎপরতার কোনো উল্লেখ না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, তবে তেলের দাম নতুন উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে যে, এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সরবরাহ সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করবে।
বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেলে ৬ দশমিক ৩৩ ডলার বা ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৪৯ ডলারে। এবং ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেলে ৫ দশমিক ২৮ ডলার বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ১০৫.৪০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপরই নয়, বরং সারা বিশ্বের মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।