আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তার স্ত্রী-কন্যার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যোষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন।

দুদকের উপপরিচালক মনিরুজ্জামান নানক এবং তার স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানু নার্গিস ও মেয়ে এস আমরীন রাখীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। দুদক আবেদনে বলেছেন, নানক এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হবে। তাই দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। এর আগে টেলিকম কোম্পানির মাধ্যমে ২৬০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে নানকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলায় নানকের স্ত্রী ও মেয়েকেও আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সৈয়দা আরজুমান বানু ও এস আমরীন রাখি রাতুল টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ২৫৯ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকার সমমূল্যের ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার পাচার করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার প্রভাব খাটিয়ে মুদ্রা পাচারে তার স্ত্রী ও মেয়েকে সহযোগিতা করে দ-বিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

তারিক সিদ্দিক, স্ত্রী ও মেয়ের ১৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, স্ত্রী শাহীন সিদ্দিক এবং মেয়ে নুরিন সিদ্দিকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৩টি হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত। এসব হিসাবে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৬৭ হাজার ২৭১ টাকা রয়েছে। ঢাকার মহানগর জেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব গতকাল বুধবার দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, স্ত্রী শাহীন সিদ্দিক, কন্যা নুরিন সিদ্দিক ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টরা এসব হিসাবের অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব হিসাবসমূহ অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।