ঈদুল ফিতরের ছুটির পূর্বে দেশের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান-এর সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, লস্কর মোহাম্মাদ তসলিম, মজিবুর রহমান ভূইয়া, মনসুর রহমান প্রমুখ।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে সামনে রেখে দেশের কোটি কোটি শ্রমিক পরিবার তাদের ন্যায্য পাওনা বেতন ও বোনাসের প্রত্যাশা করে। কিন্তু প্রতি বছরই দেখা যায়, অনেক শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে গড়িমসি করা হয়, যা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্থিরতার সৃষ্টি করে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকল শিল্প-কারখানা মালিক ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের কষ্টার্জিত শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। শ্রমিকদের সকল বকেয়া, চলতি মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস ঈদের আগেই পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা স্বস্তি ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে পারেন।

একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শ্রমিকদের ঈদযাত্রা যেন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কঠোরভাবে বন্ধ করা এবং সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীসেবায় তদারকি ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে শিল্পখাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়।