ফুটেজ দেখে খুনিদের ধরার চেষ্টা
* ছাত্রদলের বিক্ষোভ- আজ অর্ধদিবস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
* গ্রেফতার তিনজন কারাগারে, তদন্ত কমিটি গঠন
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) নিহতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে সাম্য হত্যার ঘটনার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি করেছেন ছাত্রদলের নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাবিতে শোক দিবস পালন করা হবে এবং এদিন অর্ধদিবস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা গেছে, সাম্য হত্যার ঘটনায় তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সড়াতৈল গ্রামে চলছে শোকের মাতম। এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসী। চারদিকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মাদারীপুর সদরের এরশাদ হাওলাদারের ছেলে মো. তামিম হাওলাদার (৩০), কালাম সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (৩০) ও ডাসার থানার যতীন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সম্রাট মল্লিক (২৮)। গতকাল বুধবার গ্রেফতার তিনজনকে পুলিশ আদালতে হাজির করার পর রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। পরে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত। এ ঘটনায় আর কারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও ডিবি তদন্ত করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোটর সাইকেলে তিনজন থাকরেও দুর্বৃত্তরা শুধু সাম্যকেই ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এসব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হচ্ছে। হত্যাকা-ের মোটিভ জানতে নানা আঙ্গিকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাম্যকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আশরাফুল আলম রাফি (২৫) ও মো. আব্দুল্লাহ আল বায়েজিদকে (২৫) নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে শাহবাগ থানাধীন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলেন। পথে রমনা কালিমন্দিরের উত্তর পাশে বটগাছের কাছে পুরাতন ফোয়ারার কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দিয়ে এস. এম শাহরিয়ার আলম সাম্যকে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাদের কিল, ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করে আহত করে। পরবর্তীতে আসামীদের মধ্য থেকে একজন আসামী শিক্ষার্থী এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান পায়ের ডান রানের পেছনে উপর্যুপরি আঘাত করে। এরপর সাম্যকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাম্যকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাফি ও তার আরেক বন্ধু আবাবিল আহমেদ বিশাল বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্ত মঞ্চের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাম্য। এসময় অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে সাম্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান পায়ের উরুতে আঘাত করে পালিয়ে যায় ওই মোটরসাইকেলের আরোহী। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সাম্যের লাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে জানাজার জন্য ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়। নিহত শিক্ষার্থীর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমার ছোট ভাই সাম্যের লাশ পরিবারের পক্ষ থেকে আমি বুঝে নিয়েছি। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পুলিশের বক্তব্য : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্যকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেই বর্ণনা দিয়েছে পুলিশ। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহরিয়ার মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। রমনা কালীমন্দিরের উত্তর পাশে বটগাছসংলগ্ন পুরোনো ফোয়ারার কাছে আসার পর অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন তাঁদের মোটরসাইকেল দিয়ে শাহরিয়ারের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। পুলিশ বলেছে, এ নিয়ে তাদের সঙ্গে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বাকবিত-া শুরু হয়। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ‘দুষ্কৃতকারীরা’ শাহরিয়ার ও তার বন্ধুদের ইট দিয়ে আঘাত করে আহত করেন। একজন শাহরিয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান পায়ের ঊরুর পেছন দিকে আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে জখম অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এ সময় ‘দুষ্কৃতকারীরা’ শাহরিয়ার ও তার বন্ধুদের বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখানোর পাশাপাশি হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে শাহরিয়ারকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় শাহরিয়ারের বড় ভাই এস এ এম শরিফুল আলম শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। থানা-পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজন আসামী তামিম, সম্রাট ও পলাশের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ : সাম্য খুন হওয়ার প্রতিবাদে হাসপাতালে জড়ো হওয়া তার বন্ধু, সহপাঠী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। রাত পৌনে ২টার দিকে স্যার এফ রহমান হলের সামনে থেকেও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে সব মিছিল ভিসি চত্বরে এসে জড়ো হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সৌম্য হত্যার বিচার চাই’ সহ নানা স্লোগান দিতে থাকে। পরে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন। তখন অনেকে ভিসির বিরুদ্ধেও ‘শেইম-শেইম বলে স্লোগান দিতে থাকে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন ভিসি। মিছিল শেষে, ভিসি ও প্রক্টর নিহত শিক্ষার্থীকে দেখতে ভেতরে ঢুকতে চাইলে শিক্ষার্থীদের বাধায় ঢুকতে পারেননি। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘অথর্ব প্রক্টর, মানি না মানব না’, ‘অথর্ব ভিসি-মানি না , মানব না’ সহ নানা স্লোগান দেয়। পরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে হাসপাতাল থেকে অ্যম্বুল্যান্সে করে স্থান ত্যাগ করেন ভিসি ও প্রক্টর। এরপর শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে একটা মিছিল নিয়ে যান।
গতকাল বুধবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফের বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল। এসময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রশাসন শাহরিয়ার আলম সাম্যর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই দুর্বৃত্তরা সাম্যকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার সাহস পেয়েছে। ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকা মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেই দাবি আদায় করা হবে বলেও জানান তিনি। রাকিব আরও বলেন, এই সময়েও ছাত্রদল নেতার মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। ৭১-এর পরাজিত শক্তি ও গুপ্ত সংগঠন নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আর কোনও নেতা হত্যার শিকার হলে ছাত্রদল সরকার পতনের আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তদন্তে কমিটি : ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। গতকাল বুধবার ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমানকে প্রধান ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। সহকারী প্রক্টর শারমীন কবির কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তদন্ত) সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
অর্ধদিবস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ: শাহরিয়ার আলম সাম্য’র মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার ঢাবিতে শোক দিবস পালন করা হবে। এদিন অর্ধদিবস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার শাহরিয়ার সাম্যর স্মৃতিতে শোক দিবস ঘোষণা করছি। একইসঙ্গে অর্ধদিবস ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখা হবে। উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষক হিসেবে শাহরিয়ার আলম সাম্যর মৃত্যু আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য আমরা কাজ করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে মাথায় রেখে এর নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দায়িত্বে আছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তবুও আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে চেষ্টা করেছি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেট বন্ধ করতে। বহিরাগত যানবাহন নিযন্ত্রণে আমরা কাজ করেছি। কিছু সফলতা এসেছে কাজে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আর একটু সহযোগিতা পেলে আরও কার্যকর সফলতা পাওয়া যেত। তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আজকের মিটিংয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ডিএমপি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে মিটিং করে তাদের সাহায্য চেয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পেছনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটটি বন্ধ করে ওখানে দেওয়াল তুলে দেওয়া হবে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডিও সাহায্য করবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পর্যাপ্ত লাইটিং ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হবে। এগুলো মনিটরিং করবে গণপূর্ত বিভাগ ও ডিএমপি। ঢাবি ভিসি আরও বলেন, রমনাকে মাথায় রেখে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ডিসিপ্লিনের মধ্যে আনা হবে। এটি করতে বাকি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নিযন্ত্রণে আনা হবে। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জন্য ডিএমপি একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করবে। উদ্যানে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বলেন, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা আমাদের ছাত্র হলেও ছাড় দেওয়া কোনো সুযোগ নেই। যত কঠিনই হোক, সবার সহযোগিতা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কার্যকর করা হবে। এসময় ঢাবি ভিসি হত্যার শিকার শাহরিয়ার আলম সাম্যর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ প্রমুখ।