ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে বাকি থাকা মতপার্থক্যগুলো ঘুচিয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তান, মিসর এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। আঞ্চলিক একটি সূত্র ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এখনো বিশ্বাস করে যে, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। মধ্যস্থতাকারীদের আশা, মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে পারলে ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আলোচনার আরেকটি ধাপ শুরু করা যেতে পারে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরান যদি তাদের পথ পরিবর্তন না করে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় হামলা চালানোর কথা ভাবছেন। লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় এমন সব অবকাঠামো থাকতে পারে, যা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে ট্রাম্প গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানে আলোচনা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তের মতোই এই অবরোধও চলমান দরকষাকষির অংশ। ওই কর্মকর্তার দাবি, ট্রাম্প চান না ইরান আলোচনার টেবিলে হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করুক।

আঞ্চলিক সূত্রটি জানায়, ‘আমরা পুরোপুরি অচলাবস্থায় নেই। দরজা এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। উভয় পক্ষই দরকষাকষি করছে। এটি অনেকটা বাজারের মতো।’ মার্কিন এক কর্মকর্তা এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে যোগ করেন, ইরান যদি আরও নমনীয়তা দেখায় এবং এটা বুঝতে পারে যে ইসলামাবাদ প্রস্তাবই তাদের জন্য সেরা সুযোগ, তবেই চুক্তি সম্ভব।

মাত্র এক ইঞ্চি দূরে থাকা চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সংলাপে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তারা চুক্তি থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিলেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্য নিয়ে ইরান আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল।

আরাগচি বলেন, ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম সরাসরি ও নিবিড় সংলাপে অংশ নেয় ইরান। তাদের লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা কমিয়ে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।

তবে শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদের অবস্থান কঠোর হয়ে ওঠে এবং আলোচনার বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে অবরোধের সিদ্ধান্ত আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলে।

তিনি বলেন, ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও এসব কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

আরাগচির ভাষায়, এই সংলাপ থেকে ইরানের প্রাপ্তি প্রায় শূন্য। সদিচ্ছার প্রতিদান সদিচ্ছা দিয়েই হওয়া উচিত, কিন্তু শত্রুতার জবাবে শত্রুতাই ফিরে আসে।

বন্দর হুমকিতে পড়লে ওমান-পারস্য সাগরের কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না

ইরানের বন্দর যদি কোনো হুমকিতে পড়ে তাহলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর এ সতর্কতা দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেছেন, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা থাকতে হবে, নয়ত কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না।”

বিপ্লবী গার্ডের এ মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। দেশটি জানায়, ইরানের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে আর চলতে পারবে না।

বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উপসাগরীয় যত দেশ আছে তারা তাদের উৎপাদিত তেল ও গ্যাস হরমুজ দিয়ে রপ্তানি করে থাকে।

যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যহত হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘ লাইন ধরে মানুষকে জ্বালানি নিতে হচ্ছে।

ইরান ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতেই হরমুজ থেকে ‘পালাল’ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে দুটি মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। ইরান বলছে, এটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রচারণামূলক অভিযান ছিল, যা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি, ইউএসএস মাইকেল মার্ফি ও ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন নামের দুটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরের মুখে পৌঁছানোর পরই ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায়। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজ দুটিকে লক করে এবং আক্রমণকারী ড্রোন পাঠানো হয় তাদের অনুসরণ করতে।

একটি সামরিক-নিরাপত্তা সূত্র প্রেস টিভিকে বলেছে, ‘ডেস্ট্রয়ার দুটি সম্পূর্ণ ধ্বংসের মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল। ইরানি বাহিনী তাদের ঠিক ৩০ মিনিট সময় দিয়েছিল পথ বদলাতে। তারা সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিয়েছে।’

প্রেস টিভি আরও জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে ধরা পড়া এড়াতে চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে ছিল জাহাজের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু ইরানের রাডার ও উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পুরো সময়জুড়ে জাহাজগুলোকে ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়।

সূত্রটি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর পূর্ণ নজরদারি আছে। এখানে গোপনে অভিযান চালানোর চেষ্টা শুধু নিষ্ফলই নয়, বিপজ্জনকভাবে উস্কানিমূলকও।’ আইআরজিসি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের পিছু হটার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার কথা বললেন সিআইএর সাবেক পরিচালক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার ক্রমবর্ধমান আহ্বানে এবার নাম লিখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান।

অযোগ্যতার কারণে ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ব্রেনান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ট্রাম্পের কথা মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।

বারাক ওবামা প্রশাসনে সিআইএর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রেনান। তিনি গত শনিবার এমএস নাউকে সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাৎকারে জন ব্রেনান বলেন, ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্য এবং এতে বহু মানুষের জীবনের ওপর সৃষ্ট ঝুঁকি তাকে পদচ্যুত করার যৌক্তিকতা তৈরি করেছে।

ট্রাম্প সম্পর্কে ব্রেনান বলেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।’

ব্রেনান আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ২৫তম সংশোধনী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।’

ব্রেনানের মতে, ট্রাম্প এতটাই বড় ধরনের ঝুঁকি যে তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্বে রাখা উচিত নয়। কারণ তার হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারসহ বিপুল সামরিক শক্তি রয়েছে।

ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধের হুমকি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান চীনের ---সিএমজি

আল জাজিরা : পসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধের হুমকির প্রশ্নে সবপক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় সোমবার এ আহ্বান জানালেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কু চিয়াখুন।

মুখপাত্র বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিরাপদ, স্থিতিশীল ও অবাধ রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবার অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীন সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালি অবরোধে অসম্মতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

এপি : যেকোনও চাপ আসলেও ব্রিটেনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে কোনও ধরনের অবরোধ সমর্থন না করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

স্টারমার বলেন, আমার দৃষ্টিতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং সম্পূর্ণ সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে আমরা আমাদের সবটুকু প্রচেষ্টা এই লক্ষ্যেই নিয়োজিত করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ব্রিটেনের মাইন অপসারণ সক্ষমতা রয়েছে। তবে এটি ব্যবহার করা হবে কি না সে সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জার্মানির অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য ইরান যুদ্ধকে দুষলেন চ্যান্সেলর

এপি : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের সিদ্ধান্তের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের লাফিয়ে বেড়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি সংকটে চাপে পড়া নাগরিকদের স্বস্তি দিতে জ্বালানির ওপর কর কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মের্ৎস বলেন, এই যুদ্ধই আমাদের দেশের সমস্যার মূল কারণ। এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

ফ্রিডরিখ মের্ৎস তার দল সিডিইউ এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনার পর পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর দুই মাসের জন্য প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট (০.১৯ ডলার) কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে মের্ৎস বলেন, এটি খুব দ্রুত দেশের চালক ও ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতির উন্নতি করবে, বিশেষ করে যারা পেশাগত কারণে সড়কে অনেক সময় ব্যয় করেন।

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ থেকে এ বছর সুদের হার কমানোর যে প্রত্যাশা ছিল, তা-ও ফেকাশে হয়ে আসছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোমবার ১৩ এপ্রিল, স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪,৭১৮.৯৮ ডলারে। যা গত ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭৪২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের সূচক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

পারস্য উপসাগর নিয়ে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হুঁশিয়ারি

এপি : পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের বন্দরগুলো ‘হয় সবার জন্য, নয়তো কারও জন্য নয়’ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের দেশের আইনগত অধিকার রক্ষা করা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর স্বাভাবিক ও বৈধ দায়িত্ব। সে অনুযায়ী, আমাদের আঞ্চলিক জলসীমায় সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করা ইরানি জাতির স্বাভাবিক অধিকার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থাকবে এবং ‘শত্রুপক্ষীয় কোনো জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অধিকার রাখে না এবং পাবে না’। তবে ইরানের নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে অন্যান্য জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলেও জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ‘অবৈধ’ এবং তা ‘দস্যুতার শামিল’।

পাঁচ দিন পর সচল ইরানের রেল যোগাযোগ ইউরেশিয়ানেট

আল জাজিরা : ইরানের রাজধানী তেহরানের সঙ্গে তাবরিজ এবং তাবরিজ থেকে মাশহাদ রুটের ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনগুলো মেরামত করা হয়েছে। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর এই রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।

ইরনা জানায়, লাইন মেরামতের পর রবিবার রাতে তেহরান-তাবরিজ-ভান রুটের একটি ট্রেন তেহরান থেকে তুরস্কের ভানের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

মিডল ইস্ট আই জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে সেতু ও রেল নেটওয়ার্কসহ পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেওয়ার পর ইরানের যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ রুট ও সেতুতে হামলার কারণে দেশটির বিভিন্ন অংশে রেলসেবা স্থগিত হয়ে যায়।

ইরান ইস্যুতে চীনকে হুঁশিয়ার করলেন ট্রাম্প

ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শঙ্কা বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানকে অবরোধ করতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানের সঙ্গে বিরোধের সময়ে চীনের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক কয়েকটি মিডিয়া বলছে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প বিষয়টি জেনেছেন এবং মিথ্যা বলে অভিযোগ করছেন। তবে তিনি চীনকে সতর্ক করে রেখেছেন। যদি তারা ভুল করে তবে কড়া ব্যবস্থা নেবেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘যদি কোনো দেশ ইরানকে সমর্থন করে এবং সামরিক সরঞ্জাম পাঠায়, তাহলে তাদের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে কি না এবং সেই তালিকায় চীন আছে কি না?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, অন্যরাও আছে, তবে চীনও আছে।’

যদিও ট্রাম্প এসব সংবাদকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেন, তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বেইজিংকে বড় ধরনের শুল্কের মুখে পড়তে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর আমি খুব একটা ভরসা করি না। কারণ অনেকই ভুয়া। তবে শুনছি চীন নাকি শোল্ডার মিসাইল দিচ্ছে। আমি মনে করি তারা এটা করবে না, কারণ তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে। হয়তো শুরুতে কিছুটা করেছে, কিন্তু এখন আর করবে বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু যদি আমরা তাদের এমন কিছু করতে ধরি, তাহলে তাদের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে—যা বিশাল অঙ্ক।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিং খুব শিগগিরই ইরানে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীন এসব অস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে প্রকৃত উৎস গোপন থাকে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, চীন যদি এটা করে, তাহলে তাদের বড় সমস্যায় পড়তে হবে।’ তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ‘চীন কখনোই এই সংঘাতে কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেয়নি। এ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয়।’ কেন ব্যর্থ হলো ইসলামাবাদের শান্তি চুক্তি, জানাল তেহরান।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা প্রায় একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবির কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, গত ৪৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিবিড় এই আলোচনায় ইরান আন্তরিকতার সঙ্গে অংশ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে আলোচনা চালালেও, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের ঠিক আগে মার্কিন পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান, বারবার মত পরিবর্তন এবং অবরোধের হুমকি আসে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, সদিচ্ছার জবাবে সদিচ্ছা এবং শত্রুতার জবাবে শত্রুতা জন্ম নেয়—কিন্তু এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ইতিবাচক বার্তা দেয়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের কঠোর নীতি পরিহার করে এবং ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তিনি আলোচনায় যুক্ত প্রতিনিধিদের, বিশেষ করে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

এদিকে আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সামরিক কমান্ড এই অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে, যা ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী সব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যদিও অন্য দেশের বন্দরের মধ্যে চলাচল চালু থাকবে।

নিজের নামে মেক্সিকো উপসাগরের নাম রাখতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব ট্রাম্প’ রাখার কথা ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এর আগে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে উপসাগরটির নাম ‘গালফ অব আমেরিকা উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

এই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন এর নাম গালফ অব আমেরিকা—আমার কারণেই। ছোটখাটো কাজগুলোর একটি ছিল এটি।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের যখন ৯৩ শতাংশ উপকূল রয়েছে, তখন এটিকে কেন গালফ অব মেক্সিকো বলা হবে?’

নামকরণের ধারণা কীভাবে এসেছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেন, এক পর্যায়ে তিনি নিজের নামেই এর নামকরণের কথা ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি একসময় ভাবছিলাম এটিকে ‘গালফ অব ট্রাম্প’ বলব, কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত নেইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাবলাম, বিষয়টি হয়তো ভালোভাবে নেওয়া হবে না।’

বাস্তবে, মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলের প্রায় ৪৬ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, যা ট্রাম্পের উল্লেখিত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।

এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন সময় জনপরিসর ও প্রতিষ্ঠানের নাম নিজের নামে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িতও হয়েছে।

গত আগস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, অনেকে ইতোমধ্যে কেনেডি সেন্টারকে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ বলে ডাকছেন—যা ডিসেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া, তার প্রশাসন ‘ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’-এর নামও তার নামে পরিবর্তন করে।

ট্রাম্পের ‘ডেডলাইন’ শেষ হলে যে ৫ বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে ইরান

ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া বা চুক্তিতে আসার সময়সীমা দিয়েছেন। না হলে ইরানের অবকাঠামোতে বিধ্বংসী হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তেহরান নমনীয় হওয়ার কোনো ইঙ্গিতই দেয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ইরান কোনো সাধারণ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেবে না, যেমনটা আগেও তারা করেননি। তেহরানের কৌশল হলো ‘লেয়ার্ড এসিমেট্রি’ বা যুদ্ধের মূল্য এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হরমুজ অবরোধ করলে ইরান এই পাঁচটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে-

১. বিশ্বকে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা দেয়া : ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তার ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালিতে স্মার্ট মাইন ও জিপিএস জ্যামিং দিয়ে ইরান পুরো রুটটিকে ‘কিল জোন’ বানিয়ে বিপজ্জনক করে রেখেছে। যার ফলে ইতোমধ্যে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়েছে। এখানে একটি ট্যাংকারও ডুবলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর বাইরে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ফাইবার অপটিক ক্যাবল ইরানের নিশানায় আছে। সেসব কেটে দেয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না একেবারেই। এগুলো কাটা হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও তথ্য আদান-প্রদান ভেঙে পড়বে। যাকে ‘ডিজিটাল আরমাগেডন’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে এখন।

২. তেলের আঞ্চলিক অবকাঠামো ধ্বংস : ইরানের নীতি হলো ‘আমরা তেল না বেচতে না পারলে কেউ বেচতে পারবে না।’ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্য। এগুলো আঘাত পেলে বড় উপসাগরীয় শহরগুলোতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি সংকট দেখা দেবে।

৩. সাইবার যুদ্ধ : ইরানের ‘হান্দালা’ গ্রুপের মতো দলগুলো ইতোমধ্যে সক্রিয়। এরা মার্কিন বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় হামলা করতে পারে। জাহাজের জিপিএস সংকেত পাল্টে দিয়ে সংঘর্ষ ঘটানোর সক্ষমতাও তাদের আছে।

৪. ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর ব্যবহার : ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদেরও মাঠে নামাতে পারে। ইরাক ও সিরিয়া থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা, ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগর বন্ধ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মাধ্যমে ইসরায়েলের উত্তরে হামলা একসাথে হতে পারে।

৫. যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সাম্রাজ্যে ফাটল ধরানো : চীন, রাশিয়া, পাকিস্তানের জাহাজগুলোকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দিতে পারে ইরান। যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোটে ফাটল ধরতে পারে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে অবস্থান নিতে এই দেশগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

ইরানের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হারানো নয়। লক্ষ্য হলো মার্কিন জয়কে এতটাই ব্যয়বহুল করে তোলা যাতে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে এই ডেডলাইন হলে বৈশ্বিক বিপর্যয়ের শঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নাইজেরিয়ায় ভুলবশত বিমান হামলা॥ নিহত ১০০ ছাড়াল

দ্য গার্ডিয়ান : নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে চালানো বিমান বাহিনীর এক হামলা ‘ভুলবশত’ একটি বাজারে আঘাত হানায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। কর্মকর্তারা হামলাটি ‘ভুলবশত’ হয়েছে বলে স্বীকার করলেও বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বর্নো রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা ইয়োবি রাজ্যের একটি গ্রামে চালানো ওই বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন—এ তথ্য তারা জীবিতদের কাছ থেকে নিশ্চিত করেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা জিহাদি বিদ্রোহে এই অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী প্রায়ই বিশাল বনাঞ্চলে অবস্থান নেয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায়। তবে ২০১৭ সাল থেকে এ ধরনের অভিযানে অন্তত ৫০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাব বলছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে দুর্বলতা এবং স্থলবাহিনী, বিমান ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে।

ইয়োবি রাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই এলাকায় বোকো হারাম জঙ্গি গোষ্ঠীর একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে ‘জিল্লি সাপ্তাহিক বাজারে যাওয়া কিছু মানুষ’ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া পরিচালক ইসা সানুসি বলেন, ‘আমরা সেখানকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলেছি, হতাহতদের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে।'

এ বিষয়ে নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।