দীর্ঘ ২২ দিন আংশিকভাবে উৎপাদন চালানোর পর আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রিফাইনারিতে আনা শুরু হয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই তিনটি ইউনিট পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে।
গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের মাদার ট্যাঙ্কার কুতুবদিয়া চ্যানেলে নোঙর করে। কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাত থেকেই শুরু হয় লাইটারিং কার্যক্রম। ছোট আকারের লাইটার ট্যাংকারের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে তেল খালাস করে তা ইস্টার্ন রিফাইনারির জেটিতে আনা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাহাজ নোঙর করার পরপরই লাইটার ট্যাংকার পাঠানো হয় এবং এখন পুরোদমে ক্রুড অয়েল খালাস চলছে। পর্যাপ্ত তেল মজুদ নিশ্চিত হলেই তিনটি প্লান্ট সম্পূর্ণভাবে চালু করা হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, গত দুই মাস ধরে পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকায় ডেড স্টক ব্যবহার করে মাত্র একটি প্লান্ট সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছিল। এতে উৎপাদন অনেকটাই কমে যায়। ট্যাংকে অপরিশোধিত জ্বালানির পরিমাণ প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছালে শুক্রবার সকাল থেকে তিনটি প্লান্টই আবার পূর্ণ উৎপাদনে যাবে।
সূত্র আরও জানায়, ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনাগার, যেখানে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করা হয়। পরে বিপিসির ডিলারদের মাধ্যমে তা দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়। এখানে ক্রুড অয়েল থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল, কেরোসিন, মোবিল, এলপিজি, বিটুমিনসহ মোট ১৮ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়।
বিপিসির হয়ে এই ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে গত দুই মাস ধরে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়।
প্রতি মাসে সাধারণত এক লাখ টন ক্রুড অয়েল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হয়। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাহাজ কাঁচামাল নিয়ে এসেছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতির কারণে কাঁচামাল সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রধান তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এখন নতুন চালান এসে পৌঁছানোয় ২২ দিন পর আবারও পুরোদমে উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। এতে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।