বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নির্মম ঘটনার শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন জসিম উদ্দিন (৩৮)। শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই নিরীহ রিকশাচালক ঢাকার দক্ষিণখানে স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মাকে নিয়ে এক কক্ষের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

শহীদ জসিম একজন আদর্শবান, শান্তিপ্রিয় এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ছিলেন। পরিবারকে চালাতে তিনি অটোরিকশা চালাতেন। তার সাত বছরের ছেলে মো. ফরহাদ বাইতুন নূর মাদ্রাসায় নূরানী শ্রেণিতে পড়ে এবং মেয়ে হালিমার বয়স মাত্র পাঁচ বছর। তার বৃদ্ধা মা দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ায় অন্যের সাহায্যে জীবনযাপন করতেন।

৫ আগস্ট সোমবার বিকেল ৩টায় শহীদ জসিম উত্তরা জসিম উদ্দিন মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলীতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার দুই উরুতে গুলীবিদ্ধ হয়। রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলেও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি টিয়ারশেল ও অব্যাহত গুলীর কারণে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তাকে উদ্ধার করে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার জীবন রক্ষা করা যায়নি। সন্ধ্যা ৭টায় তিনি শহীদ হন।

পরদিন, ৬ আগস্ট মঙ্গলবার, শেরপুর জেলার নিজ গ্রামে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

প্রতিবেশী লোকমান শরীফ শহীদ জসিম সম্পর্কে বলেন, শহীদ জসিম অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও ভদ্র একজন মানুষ ছিলেন। তাকে কখনো কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি। যে কাজ পেতেন, তা-ই করতেন। কখনো কারোর কোনো ক্ষতি করেননি। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

শহীদ জসিমের আত্মত্যাগ আজ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল।