সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হামেই হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে হাম সন্দেহে। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৫১ জন। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক)। এছাড়া নতুন আক্রান্ত ১৪২৮ জনের মধ্যে ১৫০ জন নিশ্চিতভাবে এবং ১২৬৮ জন সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র এই বিভাগেই ৭০৩ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ নিয়ে বা সন্দেহজনক হিসেবে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫১ জন শিশুর। অর্থাৎ, গত এক মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৭৯ জন শিশুর মৃত্যু হলো। একই সময়ে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে।
খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৯০
খুলনা ব্যুরো
খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজিবর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮৮৯ শিশু। এছাড়া ৫১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে মারা গেছে ১০ জন। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কুষ্টিয়া জেলার। কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ৩৯৯ শিশু।
এছাড়া যশোরে ১১০ শিশু, খুলনায় ৯৪, বাগেরহাটে ৩৫, চুয়াডাঙ্গায় ১৬, ঝিনাইদহে ৪৫, মাগুরায় ৬৪, মেহেরপুরে ৬৪, নড়াইলে ৩০ এবং সাতক্ষীরায় ৫৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৯০ শিশু। এরমধ্যে কুষ্টিয়ায় ২৩, সাতক্ষীরায় ৭, খুলনায় ৭, যশোরে ১৮, বাগেরহাটে ৫, চুয়াডাঙ্গায় ৩, ঝিনাইদহে ১২, মাগুরায় ৭ ও নড়াইলে ৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট ব্যুরো: সিলেটে একদিনে আরও ৩৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১৪টি হাসপাতালে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১০ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সিলেটে মারা গেছেন ৩ শিশু। স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল রবিবার সকাল ৯টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত আরও একজন সনাক্ত হয়েছেন। আর এ নিয়ে সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন ৪২ জন। সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ না থাকায় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গেল ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৩৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে ২২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি হয়েছেন।