বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল রাজধানীর মহাখালী-নাবিস্কোর মধ্যবর্তী তেজগাঁও লিঙ্ক রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন পোশাক শ্রমিকরা। বেলা ১১টার দিকে নাসা গ্রুপের ৭০০ থেকে ৮০০ শ্রমিক তেজগাঁও লিংক রোডের মুখে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে তেজগাঁও থেকে মহাখালী ও উত্তরা অভিমুখী এবং বিপরীত দিকের সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।

পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ও সমস্যা সমাধানে সোমবার এক সভার আহ্বানের প্রতিশ্রুতির পর সড়ক ছেড়ে দেন শ্রমিকরা। আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন বকেয়া রাখা হয়েছে। একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও মালিকপক্ষ পাওনা পরিশোধ না করায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। শ্রমিকেরা তেজগাঁও লিংক রোডের মুখ অবরোধ করে স্লোগান দিচ্ছেন, যার ফলে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, নাসা গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা বেতন-ভাতা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। তবে আমরা ডাইভারশনের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখেছিলাম। বর্তমানে তারা সড়ক থেকে সরে গিয়ে নাসা ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান নেন।

এদিকে, গতকাল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং শ্রমিকদের দাবি পূরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সভা শেষে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আমরা আগামীকাল সকাল ১১টায় শ্রমিক প্রতিনিধি, নাসা মেইনল্যান্ডের মালিকপক্ষ এবং বিজিএমইএ সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভা আহ্বান করেছি।’

বিষয়টি নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন একটি সমাধান বের করা হবে, যাতে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং মালিকপক্ষও তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক শ্রমিকদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় অন্যান্য সময়ের মতো রাস্তা অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আপনারা জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা ছেড়ে দিন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই এবং আপনাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা কামনা করছি। আলোচনাকালে নাসা মেইনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে তাদের ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পদ জব্দ থাকায় কারখানা পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তবে তারা মার্চ মাসের বেতন পরিশোধে সক্ষম। অন্যদিকে, শ্রমিকদের পাওনা ‘আর্নড লিভ’ এর টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।