• ইরান এমন যুদ্ধবিরতি চায় না, যা শত্রুকে হামলার সুযোগ দেবে
  • লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল
  • উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো অকার্যকর

মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আজ শনিবার সকালে ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তানে হতে যাওয়া এই কূটনৈতিক আলোচার দিকে তাকিয়ে বিশ্ববাসী। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন জেভি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পক্ষের নেৃতত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাকের গালিবাফ। পাশাপাশি সংলাপের আগে সতর্কাবস্থায় ইসলামাবাদ। এদিকে ইরান বলেছে, তারা এমন যুদ্ধবিরতি চায় না যা শত্রুকে আবার দেশটিতে হামলা চালানোর সুযোগ দেবে। এছাড়া সাম্প্রতিক তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত একডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ বলেছে, লেবাননকে বিপর্যয়কর মানবিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বর্বর ইসরাইল। আনাদুলো এজেনিস, রয়টার্স, আল-জাজিরা, বিবিসি, এএফপি, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

আজ ইসরামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধের পর আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে যাওয়া এই কূটনৈতিক আলোচনার দিকে তাকিয়ে বিশ্ববাসী। যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের স্থানীয় সময় আজ শনিবার সকালে বৈঠক শুরু হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

বৈঠকে থাকছেন যারা

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টেভ উইটকফ ও জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।আলোচনার শুরুতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আর উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলোচনার মধ্যস্থতায় থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোচনায় যেসব বিষয়

আলোচনার মূল বিষয় ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব। যেখানে রয়েছে- হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধসহ নানা দাবি।

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ১৫ দফা প্রস্তাব নিয়ে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের আগে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসলামাবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। সফররত প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বহুপদক্ষেপের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানে থাকবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তায় থাকবে রেঞ্জার্স, ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব পুলিশ। পাশাপাশি, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করবে ইসলামাবাদ ট্রাফিক পুলিশ ও ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড মোটরওয়ে পুলিশ।

নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকছে প্রায় ৬ হাজার রাজধানী পুলিশের সদস্য, ৯০০ ফ্রন্টিয়ার কনস্ট্যাবুলারি এবং ৩ হাজার পাঞ্জাব কনস্ট্যাবুলারি। এছাড়া রেঞ্জার্স ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে থাকবেন প্রায় ১ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা।

রাজধানীর ‘রেড জোন’ ও উচ্চ নিরাপত্তা এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সেনাবাহিনী ও রেঞ্জার্স। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়েছে কুইক রেসপন্স ফোর্স। মারগাল্লা পাহাড় এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রেড জোনে প্রবেশের সব পথ বন্ধ রাখা হয়েছে, শুধুমাত্র মারগাল্লা রোড দিয়ে অনুমোদিত ব্যক্তি ও বাসিন্দারা প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিনিধিদের বিমানবন্দর থেকে আবাসস্থলে যাওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে পৃথক রুট, যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও ‘ব্লু বুক’ প্রোটোকল নিশ্চিত করা হবে।

ভিভিআইপি নিরাপত্তায় নিয়োজিত টিমগুলোকে মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ঘড়িসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এছাড়া, উচ্চ নিরাপত্তা এলাকাগুলোতে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রাজধানী প্রশাসন অগ্নিনির্বাপণ, অ্যাম্বুলেন্স, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, আলোকসজ্জা এবং খাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ফয়সাল অ্যাভিনিউ থেকে জিরো পয়েন্ট এবং এক্সপ্রেসওয়ে থেকে কোরাল চৌক পর্যন্ত সড়ক বন্ধ রাখা হবে। প্রতিনিধিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

রাওয়ালপিন্ডিগামী যানবাহনকে বিকল্প হিসেবে ৯ম অ্যাভিনিউ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভারা কাহু, বানিগালা ও কোরাং রোড হয়ে চলাচলের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সর্বোপরি, ইসলামাবাদ এখন কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো, কারণ এই আলোচনাকে ঘিরে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি এখন পাকিস্তানের দিকে।

ইরান এমন যুদ্ধবিরতি চায় না, যা শত্রুকে আবার হামলার সুযোগ দেবে

ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি বলেছেন, তারা এমন যুদ্ধবিরতি চায় না, যা শত্রুকে আবার ইরানে হামলা চালানোর সুযোগ দেবে।

তেহরানে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় ইসলামাবাদে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার বিষয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছে।

ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি এ কথা জানিয়েছে। উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী মাজিদ তাখত বলেন, ইসলামাবাদে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ইরানের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনাকে গ্রহণ করা হয়েছে। ইরান সবসময় কূটনীতি এবং সংলাপকে স্বাগত জানায়। তবে তা এমন কোনো সংলাপ নয়, যা মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হয়। কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের পথ সুগম করার লক্ষ্যে করা হয়।

উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন যুদ্ধবিরতি চাই না যা আক্রমণকারী শত্রুকে পুনরায় সজ্জিত হয়ে আবার আক্রমণ করার সুযোগ দেয়। আমরা বন্ধুদের (মধ্যস্থতাকারী) স্পষ্ট জানিয়েছি।’

লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দেইর কানুন রাস আল-আইন শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ারট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, হিজবুল্লাহর লেবাননের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তাই হামলা অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে ইসরাইল এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি।

এদিকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলকে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। ইরানপন্থী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি, তাদের যোদ্ধারা গতকাল শুক্রবার ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের কিরিয়াত শিমোনা এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আর মেতুলা, মারগালিওত এবং মিসগাভ আমের এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে অধিকার রক্ষায় অটল: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না তেহরান। তবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা অটল থাকবে।

গত বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক লিখিত বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পাঠ করা ওই বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাইনি এবং এখনো চাই না। ’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াব না। এ ক্ষেত্রে আমরা সমগ্র ‘প্রতিরোধ জোটকে’ একসঙ্গে বিবেচনা করি।’

তার এই মন্তব্যকে লেবাননের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর ব্যাপক সংঘাত চলছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মোজতবা খামেনি তার বার্তায় বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকলেও জনগণের আন্দোলন থামানো উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘জনগণের রাস্তায় নামা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাবেশে আপনাদের কণ্ঠস্বর আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।’

উল্লেখ্য, বাবার ওপর হামলার সময় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি। তবে তার সব বার্তাই লিখিত আকারে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একপর্যায়ে দাবি করেন, মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, তিনি চিকিৎসাধীন আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও সেগুলো কবে তোলা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ‘অকার্যকর’

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞের মতে, এসব ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে, এগুলো এখন উপকারের চেয়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য উল্টো ঝুঁকি তৈরি করছে।

গত মাসে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে প্রথম জানানো হয়েছিল যে, ইরানের হামলার পর ঘাঁটিগুলো এখন প্রায় ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হয়ে পড়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির এ ব্যাপকতার কথা স্বীকার করেনি।

ওয়াশিংটনের ‘আরব সেন্টার’-এর বার্ষিক সম্মেলনে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের অবকাঠামোগুলো অকেজো করে দিয়েছে। অথচ এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক চিত্র সামনে আসছে না।’

বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমানÑ এই ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশাধিকার পেন্টাগন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি গত মাসে এসব দেশের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষা দিতেই এ গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

মার্ক লিঞ্চ আরও বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ৯ হাজার সেনার আবাসস্থল এই ঘাঁটিটি এখন এতটাই অরক্ষিত যে, সেখানে নৌবহরকে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এ বিশেষজ্ঞের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছিল, তা এখন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই কেবল ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা : লেবানন

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই কেবল ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা করবে লেবানন। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এবং শুধু ওই অবস্থাতেই আগামী সপ্তাহে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে লেবানন। তবে বৈঠকের দিন ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা একেবারে নজিরবিহীন নয়, তবে তা খুবই বিরল। সাধারণত দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকে।

২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছিল, যেখানে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পরিচালনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ইরানে হামলা বন্ধ করলেও লেবাননে অভিযান চালিয়েই যাচ্ছে ইসরাইল।

ইরান এটাকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ বলে দাবি করলেও ইসরাইল বলছে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়।

লেবাননকে বিপর্যয়কর মানবিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, লেবাননজুড়ে ইসরাইলের হামলায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শুধু গত ৪৮ ঘণ্টাতেই শত শত হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফলে এই পরিস্থিতি বিপর্যয়কর মানবিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালিসন ওমান লাউই বলেন, লেবাননে সংকটের একেবারে শুরু থেকেই লাখ লাখ মানুষকে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। তবে তিনি ডব্লিউএফপির কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ‘নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার’ প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও শুধু বুধবারেই লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল থমকে আছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা এর আগের দিনের (১১টি) তুলনায় অর্ধেকেরও কম। গতকাল বৃহস্পতিবার পার হয়েছে মাত্র সাতটি জাহাজ।

এদিকে ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর হিসাবে, হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরে এখনো ৬০০টির বেশি জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে ৩২৫টিই তেলবাহী ট্যাংকার।