রাজবাড়ী সংবাদদাতা : গতকাল ১৭ মে রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন এবং বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেল এর যৌথ আয়োজনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দৌলতদিয়ায় বাস ডুবিতে নিহত এবং বিভিন্ন সময়ে সড়ক দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চেক বিতরণ করে। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। বিশেষ অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, হারুন অর রশীদ এমপি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান এবং নিহতদের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোঃ রেজাউল করিম সহ আরও অনেক। বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম তার বক্তব্যে উন্নত ঘাট ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত দৌলতদিয়া ঘাট বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ব্যাস্ত নৌপথ, অথচ এই দৌলতদিয়া ঘাটের অব্যবস্থাপনা আমাদের কষ্ট দেয়, একে সময়োপযোগী এবং আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা ১৯৯৪ সাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পদ্মা সেতুর জন্য আন্দোলন করে আসছি যা আজ এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এই দূর্ঘটনা দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনকে আরও বেশি স্পষ্ট করেছে।

প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি তার বক্তব্যে ঘাট অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন পর্যায়ে দূর্বলতা আমাদের রয়েছে, আমারা তা কাটিয়ে উঠার এবং উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কোন কিছুর বিনিময়ই মানুষের জীবনের মূল্য হতে পারে না। আমরা নিহত এবং আহতদের যে সহযোগিতা করছি তা এই নির্বাচিত সরকারের দায়বদ্ধতা থেকেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে দৌলতদিয়ায় বাস ডুবিতে নিহত ২৬ জনের পরিবার সহ জেলায় অন্যান্য দূর্ঘটনায় নিহতের পরিবার কে পাঁচ লক্ষ টাকা করে এবং এই জেলায় বিভিন্ন সময়ে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত এবং আহত মোট ৬২ জনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। আহতদের কে বিভিন্ন পরিমান অংকের সহায়তা প্রদান করা হয়। এতে মোট ২ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়।