গতকাল বুধবার নওগাঁ, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁতেই মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। নিহতদের প্রায় সকলেই মাঠে বোরো ধান কাটার কাজ করছিলেন। দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে একের পর এক এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ: নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া গ্রামের কৃষক দিলিপ চন্দ্র বর্মণ কুড়াপাড়া দিঘীর পাড়ে জমিতে ধান কাটছিলেন। এ সময় প্রচ- শব্দে তার ওপর বজ্রপাত ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মহাদেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, লাশ হস্তান্তরে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে জমি থেকে ধান তুলে নিয়ে আসার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অনুকূল চন্দ্র মাহন্তের। একই উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের খোদ্দচাম্পা গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার খাসেরহাট উল্লাপাড়া গ্রাম থেকে আসা এক শ্রমিক। তার নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। নিয়ামতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত শ্রমিকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আকাশে বজ্রসহ বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। একপর্যায়ে আকস্মিক বজ্রপাতে তার পাশে আঘাত করলে তিনি ছিটকে পড়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নান্দাইল মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট বাজার এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৪০) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার আরব আলীর ছেলে।
জানা গেছে, সকাল থেকে নিজের ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করছিলেন ইউসুফ আলী। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠ থেকে ভুট্টা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণ পর পুনরায় ক্ষেতে ফিরে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. স্বর্ণা আহমেদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বজ্রপাতের আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পৌর শহরের বদিজামালপুর গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ওবাইদুল ইসলাম নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। বুধবার দুপুরে নিজ জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। আকস্মিক বজ্রপাতে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওবাইদুল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।