নানা আয়োজনে দেশজুড়ে উদযাপিত হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। যথাযোগ্য গতকাল সোমবার কবির জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এবারের জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’।
কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হন। এরপর সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলা্মরে নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে গমন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। স্মারক বক্তৃতা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। এছাড়া সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুল সংগীত পরিবেশন করা হয়। এদিন কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্মরণানুষ্ঠান। এসব আয়োজনে কবির জীবন, সাহিত্যকর্ম ও দর্শনের নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে সরকারিভাবেও গ্রহণ করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে, যেখানে কবির স্মৃতিবিজড়িত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা সভা ও নজরুলসংগীত পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে রাজধানীতে আলোচনা সভা, কবির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিনটি উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতায়, যেখানে কবির স্ত্রী প্রমিলা নজরুলের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেখানেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি গণগ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বইপাঠ, রচনা প্রতিযোগিতা, পুস্তক প্রদর্শনী ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন করছে।
উল্লেখ্য, ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে তার অবদান অনন্য ও চিরস্মরণীয়। কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও নাটকের মাধ্যমে তিনি যেমন অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা উচ্চারণ করেছেন, তেমনি সাম্য, মানবতা, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছেন। বিদ্রোহী কবি হিসেবে খ্যাত এই মহান সাহিত্যিকের চিন্তা, আদর্শ ও সৃষ্টিকর্ম আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক ও অমলিন হয়ে রয়েছে।