শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি’ এমন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং নিজের শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

গতকাল মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সমালোচনা করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রেসিডেন্ট ভাষণ দিয়েছেন, অনেকেই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আমরা এর বিরোধিতা করি না। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, প্রেসিডেন্ট আপনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, আপনি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। আপনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র আপনার কাছে পৌঁছায়নি, আপনি সেটি গ্রহণও করেননি। তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ছয় মাস পর পর কীভাবে বলেন যে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র আপনার কাছে পৌঁছায়নি?

তিনি আরও বলেন, যে প্রেসিডেন্ট শপথ ভঙ্গ করতে পারেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারেন, তিনি যে-ই হোন না কেন, আমরা প্রেসিডেন্টের চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। ১৭ বছরের নির্যাতিত বিএনপি, জামায়াত, ১১ দলীয় জোট, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির আন্দোলন করে যে ফসল এনেছিল, সেটি নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার যারা বাংলাদেশে জঙ্গি কায়েম করেছিল তারাই বেগম খালেদা জিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অবরুদ্ধ করেছিল। আজকে আমাদের মরহুম শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে আছে হুম্মাম কাদের। আমাদের সম্মানিত অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান যার পরিবারে উনার আব্বা নয় উনার দাদা থেকেই মন্ত্রীত্ব উনারা পেয়ে আসতেছেন। সেইরকম সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান উনিও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মেডিকেল কলেজে ছিলেন। আজকে সম্মানিত অর্থমন্ত্রী আপনি স্বীকার করবেন সর্বপ্রথম টেলিফোন করেছিল মরহুম শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আমি শাহজাহান চৌধুরীকে। আমি জামাত, আমি তো শিবির। কিন্তু সেইদিন আমরা জামাত শিবিররা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আহ্বানে জামাত এবং শিবির সেইদিন বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা উদ্ধার করেছিলাম।

ফজলুর রহমান সর্ম্পকে তিনি বলেন, আমার অত্যন্ত পরম মুরুব্বি ইতিহাসবিদ আমি উনার ফেসবুকে সব বক্তব্য শুনি। উনার মনের ভেতর অনেক আবেগ। ১৭৫৭ সালের ইতিহাস আপনি তুলে ধরেছেন। পাল বংশের ইতিহাস তুলে ধরেছেন কিন্তু আপনি কি ফরায়েজি আন্দোলন, ফকির আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, ওহাবী আন্দোলন, ওলামায়ে কেরামদের ইতিহাস আপনি তুলে ধরেন নাই। সেইদিন আমাদের খেলাফত আন্দোলন, ওহাবী আন্দোলন, ফকির আন্দোলন, মজনু আন্দোলন, হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলন আপনি যদি তুলে ধরতেন তাহলেই মনে করতাম আপনি একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। এখন আমার মনে হচ্ছে আপনি নিরপেক্ষ নয়। আপনি শুধু জামায়াতে ইসলামী আর মুসলমান আর ইসলামী আন্দোলনকে আঘাত করার জন্যই পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখেছেন। আমার নেতা আমাদের অপোজিশনের লিডার উনি মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তান শহীদ পরিবারের সন্তান এটার ওপরও আপনি আঘাত করেছেন। আপনার মনের বেদনা আমরা বুঝতে পারি।

তিনি প্রেসিডেন্টের ভাষন সর্ম্পকে বলেন, জনাব প্রেসিডেন্ট ভাষণ দিয়েছেন সেই ভাষণের ব্যাপারে মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ অনেকেই উনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আমরা এটার বিরোধিতা করি না। কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলতে চাই জনাব প্রেসিডেন্ট আপনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। আপনি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। আপনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ আপনার কাছে পৌঁছে নাই। আপনি নাকি সেটা গ্রহণ করেন নাই। তাহলে আপনারাই বিচার করেন সংসদে একজন প্রেসিডেন্ট শপথ নেয়ার পর কিভাবে জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নমেন্ট গঠন হওয়ার ছয় মাস পরেও উনি বললেন শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র আমার কাছে পৌঁছে নাই। যেই প্রেসিডেন্ট শপথ ভঙ্গ করতে পারে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারে সে আর যাই হোক প্রেসিডেন্টের চেয়ারে থাকতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় স্পিকার আমাদের নেতৃবৃন্দ আজকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী নেই। দশ বছর পার্লামেন্টে ছিলেন আপনি তার সাক্ষী। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এই পার্লামেন্টে কাউকে আঘাত দিয়ে কোনদিন কথা বলেছে আমি উনার বক্তব্য লাইব্রেরিতে গিয়ে সবসময় পড়ি। আজকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে খুঁজে পায় না পার্লামেন্টে। আল্লামা হযরত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রহমতুল্লাহ আলাইহি উনি এখানে বক্তব্য রেখেছেন আজকে সম্মানিত মির্জা ফখরুল ইসলাম মহাসচিব চরমভাবে শ্রদ্ধা করি উনি আমাদের কৃষিমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর স্টেট মিনিস্টার ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাকে কেন ফাঁসি দেওয়া হলো মাননীয় স্পিকার? উনি কি মানবতাবিরোধী অপরাধী ছিল?

আজকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের রাজসাক্ষী উনার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার জন্য যেই সনাতনী হিন্দু ধর্মের ভদ্রলোক ছিলেন উনি কি বলেছিলেন? আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হত্যা করা দূরে থাক স্বাধীনতার ব্যাপারে স্বাধীনতা যুদ্ধের ব্যাপারে এই মহান পার্লামেন্টে ৯৬ সালে ২০০১ সালে তৎকালীন এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে আঘাত লাগে সেইরকম কোনো কথা আল্লামা হযরত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাখে নাই মাননীয় স্পিকার।

তিনি আরো বলেন, আমার চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। সেই স্টেজে আমাদের সম্মানিত আজকের অর্থমন্ত্রী উনিও আছেন। আজকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে আমাদের বন্দর আমাদের চট্টগ্রামের উন্নয়ন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা মাননীয় স্পিকার কিছুই নেই।