# কে কোন দল করবে তা নির্ধারণের অধিকার কারো নেই : বিরোধী দলীয় নেতা
# মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং এক পর্যায়ে দাড়িঁয়ে যান এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ফজলুর রহমান তার ভাষণের এক পর্যায়ে বলেছেন, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছে।
এ বক্তব্যের পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফজলুর রহমানের বক্তব্য সমাপ্ত হওয়ার পর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়, তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। উনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করবো কোন আদর্শ অনুসরণ করব এর ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম কোনো অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত না করার আহবান জানিয়েছেন।
যেভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়
ফজলুর রহমান তার প্রতি ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, উনাকে আমি অসম্মান করি না, সবসময় ‘মাননীয়’ বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য! তারা নাকি ইসলাম... এবং উনি যে বলতেছে... ওইদিন বলল যে.. আমার দাড়ি পাকা, আমার চোখের সমস্ত পাকা। উনি আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। আমি ৪৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছি, উনি ৫৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছে।
এ পর্যায়ে স্পিকার তাকে প্রশ্ন করেন, আপনাকে কি কেউ এই ধরনের উক্তি করেছে? এরকম তো সংসদে কেউ বলেনি। জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, করেছে। স্পিকার পুনরায় বলেন, আপনি কেন নিজের গায়ে টেনে নিচ্ছেন? ফজলুর রহমান তখন জোর দিয়ে বলেন, করেছে।
স্পিকার তাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, আচ্ছা, আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।
তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও শোরগোল শুরু হয়। স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, মাননীয় সদস্যকে বলতে দিন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ আপনারা শৃঙ্খলা রক্ষা করুন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করুন।
ফজলুর রহমান আবারও বলেন, আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক তো জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।
ফজলুর রহমানের এসব বক্তব্যের যারা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তাদের দেখিয়ে তিনি বলেন, এই যে দেখেন, তারা কী ধরনের আচরণ করছে আজকে!
স্পিকার তখন সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মাননীয় সদস্য ফজলুর রহমান, অপেক্ষা করুন। এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। দয়া করে বসুন। মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আমি বলি তারপর আপনি বলেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে, লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। আমি প্রতিদিনই বলি যে ‘রুলস অফ প্রসিডিউর’ বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না।
স্পিকার বলেন, প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। যদি সরকারি দলের কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, আপনারা এরপরে তার বিরুদ্ধে যুক্তি খ-ন করুন। কিন্তু এই যে, শিশুরাও লজ্জা পাবে এই ধরনের আচরণে। ফজলুর রহমান সাহেব বলেছেন, এর পরেই আপনাদের একজনকে টাইম দেব।
এরপর ফজলুর রহমান আবারও বক্তব্য শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যুতে কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সনের ১৪ই ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে নিয়ে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে বলা হয় আল-বদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউজে প্রস্তাব হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এটা প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নিই।
আরেকটা কথা, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ৫ই আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ই আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা নয়। সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত।
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নিজের পারিবারিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা। নিজের রাজনৈতিক অধিকার এবং শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে সংশ্লিষ্ট অংশটি এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমীর বলেন, শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়, তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। উনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে। এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করবো? কোন আদর্শ অনুসরণ করব? এর ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যূনতম কোনো অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছেন।তিনি আরও বলেন, আমি অনুরোধ করবো মাননীয় স্পিকার, তার এই অসংসদীয় অংশটা এখান থেকে যেন এক্সপাঞ্জ করা হয়। শেষে গিয়ে উনি, সংসদকে ফাংশনিং করার জন্য বর্তমান জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সংকট যেটাই বলি, সেইটার ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম, কথা বলেছি, নোটিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরের দিন এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা সাথে সাথে এটা গ্রহণ করেছি। তিনি এইটাকে শেষ পর্যন্ত কনক্লুশন কী দিয়েছেন? যার মগজ যেরকম তার কনক্লুশনও হবে তার মতো। একজন প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে, রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে প্রথম দিনই বলেছি ভালো কিছু শিখতে এসেছি। কাউকে হিট করা, গালি দেওয়া এর মাধ্যমে বড় কিছু অর্জন করা যাবে না। কিছু গলাবাজি হতে পারে বড় জোর, কিন্তু তার চাইতে বেশি কিছু হবে না। আর সাধারণত যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায়, মাথা তখন গরম হয়ে যায়। একটা প্রবাদ আছে রেগে গেলেন তো হেরেই গেলেন। আমরা সবাই মিলে হাঁটতে চাই না, আমরা সবাই মিলে জিততে চাই। এজন্য সবাই যেন মাথাটা একটু ঠান্ডা রেখে যুক্তির সাথে সত্যনির্ভর কথাগুলো বলি। তাতে অবশ্যই দেশবাসী উজ্জীবিত হবে। এই সংসদের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে এবং দেশটাকে নিয়ে সবাই মিলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শেষে স্পিকার জানান, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, তবে তা কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত না করার আহবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত না করে আমরা সবাই আলোচনা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের আমাদের সমস্ত কার্যনির্বাহ এবং অর্ডার অব দ্য ডে আমরা এমন ভাবে পরিচালনা করি যেন আমাদের প্রজন্ম, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বর্তমান প্রজন্ম দেখে যে এই জুলাই যোদ্ধারা তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে, তারাও যেন শুনে যে আমরা জাতির প্রত্যাশা পূরণের জন্য এখানে আছি।
ফজলুর রহমান সর্ম্পকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য অত্যন্ত বয়স্ক এবং ইতিহাসের সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা এখন ভূগোলে আছি। আমরা বেশি ইতিহাস চর্চা করতে গেলে মাঝেমধ্যে কিছু ব্যত্যয় হবে মাননীয় স্পিকার। আপনি স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বটবৃক্ষ, তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মাঝেমধ্যে শুনতে ভালো লাগে যখন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন যে তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান। আমরা এটাকে ধারণ করি। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী দলে আছেন, আপনি নিজেই স্বীকৃতি দিয়েছেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন।
তিনি বলেন, আমরা যখন এখানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের বিলটা পাস করি, আপনার নিশ্চয়ই স্মরণে আছে বিরোধী দল কিন্তু ওয়াকআউট করে নাই। এখানেই ছিল। না ভোটও দেয় নাই, এখানেই ছিল। মৌনতা সম্মতির লক্ষণ হিসেবে আমরা ধরে নিয়েছি। তৎকালীন রাজনৈতিক দলের উল্লেখ করে কয়েকটি রাজনৈতিক দল আবার উত্তেজনা হোক সেটা চাই না নাম নেব না, তাদের মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ এই দুই ডেফিনেশনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা তো সেটা স্বীকৃতি দিয়েছেন মাননীয় স্পিকার। আমরা ওখানেই থাকি। সুতরাং নতুন করে আমার মনে হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভিত্তিতে জাতিকে আর বিভক্ত না করে আমরা সবাই আলোচনা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের আমাদের সমস্ত কার্যনির্বাহ এবং অর্ডার অব দ্য ডে আমরা এমন ভাবে পরিচালনা করি যেন আমাদের প্রজন্ম, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বর্তমান প্রজন্ম দেখে যে এই জুলাই যোদ্ধারা তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে, তারাও যেন শুনে যে আমরা জাতির প্রত্যাশা পূরণের জন্য এখানে আছি।
সংসদে ডকুমেন্টের রেফারেন্স সুনির্দিষ্টভাবে দেয়ার আহবান বিরোধী দলীয় নেতার : আন্দালিব রহমান পার্থের একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, জিয়া পরিবার নিয়ে কেন কারো নামেই রেকলেস কথা বলি না। সংসদে ডকুমেন্টেড কোনো কিছু যদি কেউ রেফারেন্স দিয়ে এক্সপ্রেস করেন দ্যাট শুড বি ভেরি স্পেসিফাইড।
গতকাল রাষ্ট্রপতির ভাষনের উপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা একথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো, এজন্য আমাকে নিয়ে কসরত করে সবাই। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ব্যারিস্টার পার্থ সাহেবÑআমি শুনেছি উনি খুব ভালো ডিবেট করতেন। উনি প্রচুর মেটেরিয়ালস নিয়ে এসেছেন। তবে কিছু উনি সঠিক চালানি দিয়েছেন আবার কিছু একটু বেঠিক চালানি দিয়েছেন। আগের দিনও এরকম একটা বক্তব্যের পরে আমি পারসোনালি উনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। উনি কার নামে কোট করেছেন আমি ঠিক বুঝতে পারি নাই কিন্তু ফাইলটা শুরু করেছেন আমার নামে। উনি বলেছেন যে আমি জিয়া পরিবারকে...(পার্থ কথা বলে থাকলে) নো নো নো আপনি মেনশন করেছেন লেট মি সে লেট মি সে। যে জিয়া পরিবারকে আমি নিশ্চিহ্ন বা এইটা হাবিজাবি করতে বলেছি। আই অ্যাম গিভিং চ্যালেঞ্জÑহোয়ার? হোয়েন? হাউ? ইউ হ্যাভ টু ক্লারিফাই। আমি এ ধরণের রেকলেস কথা কারো নামেই বলি না। এমনকি শেখ হাসিনার পরিবারের নামেও বলি না। যে দোষ করবে তার সাথে যাবে বিষয়টা। অন্য কেউ বললে সেটা আমার নামে চালান হবে না। ত্যব কথা। তো আমি উনাকে অনুরোধ করব বক্তব্যের মাধুর্য ছড়াইতে গিয়ে আমার উপরে যেন ভবিষ্যতে আর মেহেরবানি করে এ ধরণের দয়া উনি না করেন। আমাকে এত ভালোবেসে সবকিছু আমার নামে চালান দিলে আমি বোধহয় বহন করতে অপারগ।
এরপর পার্থ আবার বলেন, এটা আমি বলছি, এই যে আমার হাতে ডকুমেন্টস জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার এনসিপির এক নেতা বলেছেন। আমি তো উনার...(তখন এনসিপির সদস্যরা প্রতিবাদ করেন। দাঁড়ান দাঁড়ান। এত উত্তেজিত হবেন না। এত উত্তেজিত হবেন না। আমি হয়তো উনার নাম দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা যেহেতু উনাকে লায়াবিলিটি যেহেতু উনি ১১ দলের নেতা, উনার নাম বলেই আমি স্টার্ট করেছি। বাট এই ক্লিপগুলিতে আরও অন্যান্যদের কথা আছে। তো এইজন্য আমি এক্সপ্লেইন করি নাই। কোনো মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকলে আই হ্যাভ নো প্রবলেম। কিন্তু আমার উনাকে একিউজ করা যেটা না বিকজ আমি তো ডকুমেন্ট নিয়ে কথা বলছি। দেয়ার হ্যাজ বিন এ মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং এন্ড এটা খুব সিম্পল ব্যাপার এর বাইরে আর কিছুই নাই। আমার উনাকে এখানে একিউজ করারÑআজকে ডিজিটালাইজেশনের সময় এটা সম্ভব না আমি যদি মিথ্যা কিছু বলি তাহলে এটা নরমালি বের হয়ে যাবে। আর আমার এখানে অনেক কিছু বলার আছে যেটা আমি আগামীতে বলব। আজকের এটিটিউড দেখার পরে আমার মিথ্যা বলার দরকার নাই। জামাতে ইসলামী নিয়ে সারাদিন বলতে পারব ইনশাল্লাহ আপনি যদি সময় দেন।
পরে আবার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, না আমি বেশি কিছু বলার জন্য দাঁড়াইনি। আমি শুধু এইটা বলেছি যে এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে যখন কোনো ডকুমেন্ট হাতে নিয়ে আমরা কোনো রেফারেন্স দিব দ্যাট শুড বি ক্লিয়ার এন্ড এপ্রোপ্রিয়েট। তাইলে তো আর কোনো সমস্যা হয় না। তখন আর কারো চ্যালেঞ্জ করার থাকলে সে করবে আর এডমিট করার হলে তাও করবে। অসুবিধা নাই। কিন্তু যদি কনফিউজিং ওয়েতে আমরা এটা সামনে প্রেজেন্ট করি তাহলে তো প্রবলেম ক্রিয়েট হবে। আমি উনাকে এবং সবাইকে, আমাকেসহ সবাইকে অনুরোধ করব ডকুমেন্টেড কোনো কিছু এইখানে যদি কেউ রেফারেন্স দিয়ে এক্সপ্রেস করেন দ্যাট শুড বি ভেরি স্পেসিফাইড। থ্যাংক ইউ মাননীয়।