রাজশাহী অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে ফলের রাজা আমের বাজার ও বিপণনকেন্দ্রিক কর্মতৎপরতা। ইতোমধ্যে গাছ থেকে অপরিপক্ক ও অপুষ্ট আম পাড়া এবং বাজারে নেয়ার প্রবণতা ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এবারও আমের নায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে বাগান মালিকদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।
রাজশাহী কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় ১৯ হাজার ১৮৮ হেক্টর জমির আমের বাগান থেকে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। এদিকে জেলা প্রশাসন যখন তখন গাছ থেকে আম নামানোর বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। সম্ভাব্য মোট বাণিজ্যের পরেমাণ ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। তবে প্রতিবারের মতো এবারও দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন চাষিরা। তারা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই আমের কাক্সিক্ষত দাম মিলছে না। দুবছর ধরে বন্ধ রয়েছে বিদেশে আম রফতানি। এবারও রফতানি নিয়ে কোনো আশার বাণী নেই। বাগান মালিকরা আমের দাম নিশ্চিত করার কথা বলে আসছেন বরাবর। প্রয়োজনে সরকারিভাবে হিমাগার বানাতে হবে। যেন মৌসুমের আম কিছুদিন হিমাগারে থাকে। এই আমগুলো এক মাস সংরক্ষণ করা গেলেও দ্বিগুণ দাম পাবেন চাষিরা। কিছু আম বিদেশে রফতানি করা গেলেও ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।
ম্যাংগো ক্যালেন্ডার
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতেই ১৫ মে থেকে গাছ থেকে নামানো যাবে সব ধরনের গুটি আম। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর ২২ মে থেকে বাজারে আসবে রসালো গোপালভোগ। এর তিন দিন পর অর্থাৎ ২৫ মে থেকে চাষিরা সংগ্রহ করতে পারবেন লক্ষণভোগ (লখনা) ও রানিপছন্দ জাতের আম। জনপ্রিয় হিমসাগর (ক্ষীরশাপাত) আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৩০ মে পর্যন্ত। জুন মাসের শুরুতেই অর্থাৎ ১০ জুন থেকে নামানো যাবে সুগন্ধি ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাংগো। এরপর ১৫ জুন থেকে একযোগে বাজারে আসবে দুই জনপ্রিয় জাত ফজলি ও আম্রপালি। মৌসুমের শেষের দিকে অর্থাৎ ৫ জুলাই থেকে গাছ থেকে নামানো যাবে বারি আম-৪। এর কিছুদিন পর ১০ জুলাই থেকে সংগ্রহ করা যাবে আশ্বিনা জাতের আম। আর সবশেষে নাবি জাতের আম হিসেবে ১৫ জুলাই থেকে বাজারে আসবে গৌড়মতি। জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই গাছ থেকে আম নামানো যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বাগান মালিকদেরকে। বাজারে অপরিপক্ক ও অনিরাপদ আম রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ আগে আম নামায় বা কৃত্রিমভাবে পাকানোর চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। রাজশাহীর আমের বড় হাটগুলো তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তুমুল ব্যস্ততা
আমের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলে চললে তুমুল ব্যস্ততা। আমের বাগান পাহারা দেয়া, গাছ থেকে সময় বুঝে আম নামানো, আড়তে তোলা, প্যাকেট বা ঝুড়িতে সংরক্ষণ করা, ট্রাকে বা কাভার্ড ভ্যানে তোলাসহ আনুসঙ্গিক কাজে প্রচুর লোকের অংশগ্রহণ থাকে। এতে মওসুমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। গ্রাম থেকে শহরমুখি বাজারগুলোতে আমের গমনাগমনেও প্রচুর লোকের প্রয়োজন পড়ে। এভাবে আমের মওসুম বিপুল আর্থিক লেনদেনে জমজমাট হয়ে থাকে।