সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ জনবল গঠন ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। গতকাল সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আনজা কার্স্টেন সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে নবনিযুক্ত আইজিপিকে অভিনন্দন জানান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকাকে প্রশংসা করেন ডেপুটি হেড অব মিশন। তিনি ক্রাউড কন্ট্রোল, সাইবার সিকিউরিটি, ফরেনসিক, বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া দলিল যাচাই এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এসময় বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিতে জার্মান সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান আইজিপি। তিনি সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন।
তিন বছর পর হত্যার রহস্য উদঘাটন
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর: গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার আলোচিত হত্যা মামলার প্রায় তিন বছর পর অবশেষে মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা। এ ঘটনায় জড়িত এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামী শাওন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায় মাসুদ রানা কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে পথরোধ করে শাওন মিয়াসহ কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃত্যুর আগে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানা হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করেন, যা আংশিকভাবে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে শাহবাগ থানা পুলিশ সুরতহাল সম্পন্ন করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে জিএমপি সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ ২ বছর ১০ মাসেরও বেশি সময় তদন্ত চলার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পরে পিবিআই গাজীপুর জেলার একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকা থেকে গত ১২ এপ্রিল অভিযুক্ত শাওন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামান্য ২০০ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকা- ঘটে। ঘটনার দিন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় শাওন মিয়া নিহত মাসুদের কাছ থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে তাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামী আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে।
অতিরিক্ত আইজিপি, পিবিআই মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান এবং পুলিশ সুপার, পিবিআই গাজীপুর মোঃ আবুল কালাম আজাদের দিকনির্দেশনায় মামলাটির তদন্ত পরিচালিত হয়।
দীর্ঘদিনের রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতারে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পিবিআইয়ের এ সাফল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও জোরদার হয়েছে।