“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক্।” লাখ লাখ কণ্ঠের এই ধ্বনিতে আজ মুখরিত হয়ে উঠব্ েআরাফাত ময়দান। তাদের সমবেত কন্ঠে “লাব্বাইক” ধ্বনি আকাশ বাতাসে বিমোহিত হবে। বিঘোষিত হবে মহান আল্লাহর একত্ব ও মহত্বের কথা। কাফনের কাপড়ের মতো সাদা দু’টুকরো ইহরামের কাপড় পরে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়বে আল্লাহর বান্দাহগণ। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড ইমাম হাজীদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করবেন। আল্লাহ তায়ালা এবং বান্দার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের অনন্য আবহে বিরাজ করবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্য।

জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার ফজরের নামায মিনায় আদায় করার পর হাজীগণ ইহরাম বাঁধা অবস্থায় আরাফাত ময়দানে এসে অবস্থান গ্রহণ করবেন। অবশ্য অনেকে গত রাতেই আরাফার তাবুতে চলে এসেছেন। এই আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়েই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। লাখো মানুষের উদ্দেশে প্রদত্ত এই ভাষণের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছিল দ্বীনের পরিপূর্ণতা লাভের। আজো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভাষণ দেয়া হয়। ভাষণে গোটা বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। আর হাজীগণ এক আবেগঘন পরিবেশে মহান আল্লাহর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়ার মন-মানসিকতা নিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন। তারা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, নিজের পরিবার পরিজন, সমাজ ও রাষ্ট্রের সুখ শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

বাংলাদেশে আজ ৮ জিলহজ্ব হলেও সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ্ব। গতকাল সারাদিন ও রাতে হাজীগণ মিনায় অবস্থান করেছেন। আজ ফজরের নাম ায মিনায় আদায় করার পর আরাফার ময়দানে হাজীগণ অবস্থান করবেন। এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকতে হবে। সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার উদ্দেশে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা’র নামায এশা’র ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামায পড়ে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ৯ মাইল পূর্বদিকে একটি পাহাড়ের নাম ‘জাবালুর রহমত’ বা রহমতের পাহাড়। এই পাহাড় সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রলম্বিত বিরাট প্রান্তরটি আরাফাত প্রান্তর নামে পরিচিত। পাহাড়টি মধ্যম আকৃতির এবং গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত। এর উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট। এই পাহাড়ের পূর্বদিকে প্রস্তরের সিঁড়ি রয়েছে। এর ষষ্ঠ ধাপের উচ্চতা বরাবর আগে একটি উন্নত মঞ্চ ও একটি মিম্বর ছিল। এই মিম্বরে দাঁড়িয়ে প্রতি বছর ৯ জিলহজ্ব আরাফার দিন ইমাম সাহেব খুতবা প্রদান করতেন। এখন আর সেই মঞ্চ ও মিম্বার নেই এবং এখান হতে হজ্বের খুতবাও প্রদান করা হয় না। বরং এখন খুতবা দেয়া হয় মসজিদে নামিরা হতে। এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামায আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। শরিয়তের বিধানানুসারে আরাফাতে অবস্থান করাই হজ¦।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর মাত্র ১ দিন হাজীরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। তখন তাদের পরনে থাকে কাফনের কাপড়ের মতো সেলাইবিহীন সাদা দুই টুকরো কাপড়। হাজীরা আরাফারাতের ময়দানে অবস্থানকালে উচ্চস্বরে লাব্বাইকা পাঠ করেন, যদি সম্ভব হয় হজ্বের খুতবা শ্রবণ করেন। যোহর ও আছরের নামায একত্রে এবং মাগরিব ও এশা’র নামাযও একত্রে আদায় করেন, আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করেন, কুরআন তেলাওয়াত, দরূদ ও সালাম প্রেরণ এবং ইহ ও পরকালের কল্যাণ কামনায় অবস্থানকালটি অতিবাহিত করেন।

হযরত আবদুর রহমান বিন ইয়ামার আদ-দায়লি (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আরাফাই তো হজ্ব।” ইমাম শাওকানী (রহ.) এ কথার ব্যাখ্যায় বলেছেন, “যে ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট দিনে উক্ত ময়দানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য অর্জন করল তার হজ্ব হয়ে গেল।” ইমাম তিরমিযী (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আরাফাত ময়দানে অবস্থান করার ভাগ্য যার হয়নি তার হজ্ব বাতিল হয়ে যাবে।”

বুখারী ও মুসলিমের এক হাদীসে উল্লেখ রয়েছে- হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো কোন আমল অধিক উত্তম। তিনি বললেন, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোনটি? জবাব দিলেন আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোনটি? উত্তর দিলেন, মকবুল হজ্ব। অন্য হাদীস : হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্ব করল এবং স্ত্রী সম্ভোগ ও কবিরা গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্যপ্রসূতের মতো নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করল। বুখারী।

আরও বর্ণিত হয়েছে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমরা হজ্ব ও ওমরাহ পরপর আদায় কর, কেননা এ দু’টি কাজ দারিদ্র্য ও গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যেমন রেত লোহার মরিচা এবং সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে দেয়। আর কবুল হওয়া হজ্বের সাওয়াব জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমদ।

পবিত্র হজ্বের দিনে হাজিদের নির্বিঘেœ হজ্বব্রত পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। ইতোমধ্যে হজ্ব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সিভিল ডিফেন্স কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী, ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক এবং মিডিয়া কর্মীদের নিয়োগ দেয়াসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামে বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে পবিত্র হজের খুতবা চলতি বছরও বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবা শুনতে পারবেন বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরা। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সির অধীনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে এবার বাংলা অনুবাদ দলের দায়িত্ব পালন করবেন চার বাংলাদেশি। তারা হলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক এবং নাজমুস সাকিব।

জানা গেছে, অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত চারজনই মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বাংলা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান। তিনি জানান, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবা বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে। অনুবাদ কার্যক্রমে পুরো দল অংশ নিলেও উপস্থাপনায় সাধারণত দুজন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর আগে একাধিকবার হজের খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এ দিন বাংলাদেশসহ আশেপাশের দেশসমূহে উৎসবের ঈদ উদযাপিত হবে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় মুসলমানগণ আনন্দ উৎসব পালন করবে। ঈদের দিন রাজধানীসহ দেশের সকল মুসলমান বিনম্র হৃদয়ে ঈদ-উল-আযহার নামায আদায় করবেন এবং নামায শেষে মহান রবের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি দিবেন।

আল্লাহর জন্য নিজের জান-মাল ও প্রিয়তম জিনিস সন্তুষ্টচিত্তে বিলিয়ে দেয়ার এক সুমহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর ঈদ-উল-আযহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কুরবানি করা ওয়াজিব। আল কুরআনের সূরা কাউসারে বলা হয়েছে, “অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড় এবং কুরবানি কর।’’ সূরা হজ্জে বলা হয়েছে, “কুরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’’

কুরবানির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-এর দু’পুত্র হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কুরবানি করেন। এ প্রসঙ্গে সূরা মায়েদায় ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, “আপনি তাদের আদমের দু’পুত্রের বাস্তব অবস্থা পড়ে শোনান। যখন তারা উভয়েই কিছু কুরবানি করেছিল তখন তাদের একজনের কুরবানি কবুল হয়েছিল এবং অপরজনেরটি হয়নি।’’

কুরবানি মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সুন্নাহ। আল্লাহ তাঁর কুদরতী পরিকল্পনায় ইব্রাহীম (আ.)কে তাঁর শেষ বয়সে প্রিয়তম পুত্র ইসমাইল (আ.)কে কুরবানি করার নির্দেশ দেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ৮৫ বছর বয়সে হযরত ইসমাইল (আ.)কে পান। এ অবস্থায় ছেলেকে কুরবানি দেয়া এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি তাঁর মহান রবের হুকুমে নত হলেন। নিষ্পাপ পুত্র ইসমাইল (আ.)ও নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। একপর্যায়ে পিতা তাঁর পুত্রকে জবাই করতে যখন উদ্যত ঠিক তখনই মহান আল্লাহর কাছে ঈমানের কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন। চোখ বাঁধা অবস্থায় তিনি জবাই করেন। চোখ খুলে দেখেন তাঁর প্রিয় পুত্র অক্ষত রয়েছে আর কুরবানি হয়েছে একটি চতুষ্পদী দুম্বা।

আল কুরআনে এই মহিমান্বিত ত্যাগের ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম (আ.) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে বললো, হে পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রাহীম (আ.) তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্তু।” হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানরা কুরবানি করে আসছে। তাঁরই নিদর্শন স্বরূপ প্রতি বছর হজ্জ পালনকারীরা কুরবানি দিয়ে থাকেন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, কুরবানির পূর্বশর্ত আল্লাহ ভীতি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাক্সক্ষা। হাদীস শরীফে আছে, ‘মানুষের আমলের প্রতিফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। সূরা হজ্জে বলা হয়েছে, “এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’’ প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কুরবানি দিলো না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ)

জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন একদিন কুরবানি করা যায়। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ শ্রেণীর প্রাণী দ্বারা কুরবানি করা যায়। কুরবানিকৃত পশুর গোশতের একভাগ গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়।

এদিকে ৯ জিলহজ¦ ফযর নামাযের পর থেকে ১৩ জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তালবিয়া পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলো, ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’’

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ঈদ-উল-আযহার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার

শুভেচ্ছা বিরোধীদলীয় নেতার

স্টাফ রিপোর্টার

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, হযরত ইব্রাহিম (আঃ), তাঁর স্ত্রী হযরত হাজেরা এবং প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের সামনে সমাগত। ঈদুল আযহা আমাদের ত্যাগ ও কুরবানির মহান আদর্শে উজ্জীবিত করে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করার চেতনা জাগ্রত করে। সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরবানির শিক্ষা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তি পালিয়ে গেলেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। তারা বিদেশে অবস্থান করে এবং দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থেকে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ যাতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে না পারে সেজন্য তারা নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যাচ্ছে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ), হযরত হাজেরা এবং হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর মহান ত্যাগের ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁদের সেই ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি আমরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জানমাল ও প্রিয় বস্তু কুরবানি করতে পারি, তবেই আমাদের ত্যাগ ও কুরবানি আল্লাহর নিকট কবুল ও সার্থক হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া কামনা করেন এবং নিজের ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের শুভেচ্ছা: ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শোষণমুক্ত ও তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরসহ দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

গতকাল সোমবার এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পশু কুরবানিকে আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন, দ্বীন কায়েমের জন্য জান ও মাল কুরবানিকে আল্লাহ ফরজ করেছেন। ত্যাগ ও কুরবানির প্রেরণা নিয়ে পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে সমাগত। এই ঈদ শুধুমাত্র ত্যাগের চেতনাকেই উজ্জীবিত করে না, সেই সাথে সমাজে অনৈক্য ভুলে গিয়ে পরস্পরের ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বন্ধনকে আরো মজবুত করে। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর রাহে ত্যাগ ও কুরবানির মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে তার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার জন্যেই আল্লাহ তা’য়ালা মুসলিম মিল্লাতের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত এ কুরবানিকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। যাতে প্রতিটি মুসলমান তার নফসের ওপর বিজয়ী হয়ে নিজের প্রিয় বস্তু, ধন-সম্পদ, চিন্তা-চেতনা আল্লাহর রাহে কুরবানি করে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জন করতে পারে। কুরবানির মূল শিক্ষাই হলো নিজের অহংবোধকে বিসর্জন দেওয়া এবং সেই সাথে আল্লাহর দেওয়া বিধি-নিষেধ পালন করে পরিপূর্ণ তাকওয়াবান মুমিন হওয়া।

পশু কুরবানির মতোই ইকামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইকামতে দ্বীন বলতে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের ফরজ বিধানগুলো প্রতিষ্ঠা করা এবং তা মেনে চলা। ইকামতে দ্বীন শুধুমাত্র কালেমা, নামায, রোজা, হজ্ব ও যাকাতকেই বোঝায় না। এটির চূড়ান্ত রূপ ও পরিপূর্ণ বিকাশ হচ্ছে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, কুরআনের বিধান প্রবর্তন করা। তাই নতুন বাংলাদেশে ইকাামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় দলমত-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন- “বলুন, আমার নামায, আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে”। তাই ঈদুল আযহা আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয়। আমরা যদি বাস্তব জীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি, তাহলেই কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হবে। নেতৃবৃন্দ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই সাথে নেতৃবৃন্দ আবারো ঢাকা মহানগরীসহ দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানান এবং সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রেখে স্বাস্থ্য সচেতনতার সাথে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল আযহা উদযাপন করতে অনুরোধ করেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুখী, সমৃদ্ধ, অপরাধ ও বৈষম্যমুক্ত ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক শুভেচ্ছা বাণীতে তারা গতকাল এসব কথা বলেন।

মহানগরী নেতৃদ্বয় বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন। বস্তুত, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ পালনার্থে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) স্বীয় পুত্র হযরত ঈসমাইল (আ.)কে কুরবানি করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। সে আদর্শ অনুসরণেই মুসলিম উম্মাহ দিবসটিকে পবিত্র ঈদুল আযহা হিসাবে পালন করে আসছে। মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য, তার প্রকৃত সন্তুষ্টি ও মানবকল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগই ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা। আর নিজের প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপই পশু কুরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে কালামে হাকীমে বলা হয়েছে, ‘কুরবানির পশুর রক্ত; গোশত কোন কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি’ (সুরা হজ্জ, আয়াত-৩৭)। তাই কুরবানির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মগঠন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আর্ত- মানবতার মুক্তির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তারা বলেন, জাগতিক লোভ-লালসা ও কামনা-বাসনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে পশুপ্রবৃত্তির ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও বিজয় অর্জনই ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা। অন্যায়-অসত্য, অনাচার-পাপাচার, হিংসা-বিদ্বেষ, জুলুম-নির্যাতন, বিভেদ-বিসংবাদ বন্ধ করে সমাজ-রাষ্ট্রে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ সাধন করা পবিত্র ঈদুল আযহার উদ্দেশ্য। কুরবানি হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণময় নিদর্শন। সে কল্যাণকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোই মোমিন জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

তারা আরো বলেন, সরকারের নির্লিপ্ততা ও উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণেই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ফলে দেশে অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সে ধারাবাহিকতায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশের পবিত্র জমিনকে কলঙ্কিত ও রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাই এ দুর্বৃত্তের অনতিবিলম্বে বিচার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি কুরবানির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা; হত্যা, ধর্ষণ ও দুর্নীতিসহ সকল প্রকার অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা ও আন্তরিক মোবারকবাদ জ্ঞাপন করেন।

মাওলানা হাবিবুর রহমানের ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেট-১ আসন (মহানগর ও সদর) এর বাসিন্দা ও সর্বস্তরের সিলেটবাসীকে শুভেচ্ছা ঈদ মুবারক জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।

এক শুভেচ্ছা বার্র্তায় তিনি বলেন, ত্যাগের সুমহান মহিমা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আযহা। এবছর আমরা এমন সময় ঈদ উদযাপন করছি যখন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। দেশে চুরি ছিনতাই খুন রাহাজানি চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। ছোট্ট শিশুরা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্রের সকল সেক্টরে নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে সরকার পতিত ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটঁছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এটা প্রত্যাশিত ছিল না। পবিত্র ঈদুল আযহার কুরবানির ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারসহ সবাই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শপথ নিবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি। ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যায়দীপ্ত কাফেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় আর্তমানবতার কল্যাণে ছিল আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। সামর্থ্যবানদের উচিত ঈদ আনন্দে অসহায় মানুষের কল্যাণে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা। যাতে তারাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে।

পবিত্র ঈদুল আযহায় আল্লাহর নামে প্রিয় পশু কুরবানির মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ত্যাগের নজির স্থাপনের শিক্ষা নিতে হবে। ব্যক্তিগত, সমাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ কে

কোথায় ঈদ করবেন

স্টাফ রিপোর্টার

বিরোধীদলীয় নেতা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান পবিত্র হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বিধায় তিনি সেখানেই পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন।

নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি ঢাকায়, নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি ঢাকায়, নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি ঢাকায়, নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন।

এছাড়া সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী নিজ গ্রামে, এডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে ঈদ উদযাপন করবেন।

জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট

বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে রাজধানীর কুরবানির পশুর হাটগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর হাঁকডাক, দরদাম আর মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে হাটগুলো।

রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এবার মোট ২৭টি পশুর হাট বসেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও পরিচিত গাবতলী পশুর হাট অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী হাট-কমলাপুর অস্থায়ী পশুর হাট।

সরেজমিন দেখা দেখা গেছে, গতকাল সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক কোলাহল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ এসে পৌঁছাচ্ছে হাটে। কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুমিল্লা, নওগাঁ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা তাদের পশু নিয়ে রাজধানীর বাজারে এসেছেন ভালো দামের আশায়। হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু কিনে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ শুধু হাটের পরিবেশ উপভোগ করতেও আসছেন। ক্রেতারা জানান, কয়েক দফা দরদামের পর তুলনামূলক সহনীয় দামে পশু পাওয়া গেলেও বড় আকারের গরুর দাম এখনও বেশ চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর খামারিদের আনা পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে নানা দামের পশু পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঈদের আগের শেষ দুই দিনেই সবচেয়ে বেশি বিক্রির আশা করছেন তারা। শাহজাহানপুর হাটে আগত রাইসুল নামের এক খামারি বাসসকে বলেন, খাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই কিছুটা বেশি দাম চাইতেই হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের সাধ্যের কথাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এদিকে হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জাল টাকার ব্যবহার ঠেকাতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর প্রতিটি বড় হাটে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক স্থাপন করেছে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ ও টাকা গণনার মেশিন। অনেক ব্যাংক মাত্র পাঁচ মিনিটে হিসাব খোলার সুবিধাও দিচ্ছে পশু ব্যবসায়ীদের। কুরবানির পশুর বাজার পরিদর্শনে এসে মৎস প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে এবার কুরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লক্ষাধিক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

ডিএসসিসির আওতাধীন অস্থায়ী হাটগুলো বসেছে- পোস্তগোলা, শাহজাহানপুর, রহমতগঞ্জ, আমুলিয়া, শ্যামপুর, আফতাবনগর, কাজলা-মাতুয়াইল এলাকা, দয়াগঞ্জ-জুরাইন, বনশ্রী, গোলাপবাগসহ বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে ডিএনসিসির অধীনে মিরপুর, কালশী, বছিলা, উত্তরা দিয়াবাড়ি, ভাটারা, বাড্ডা, মহাখালী ও বসুন্ধরা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বসেছে অস্থায়ী পশুর হাট। রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে এখন যেন এক ভিন্ন আবহ। ক্রেতাদের দরদাম, বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর কুরবানির প্রস্তুতিতে নগরজীবনে যোগ হয়েছে ঈদের আমেজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে হাটের প্রাণচাঞ্চল্য ও কেনাবেচার গতি।

এদিকে, মুগদা বিশ্বরোড, মানিকনগর টিটিপাড়া স্টেডিয়াম, আন্ডারপাস হয়ে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছন পর্যন্ত বিস্তৃত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর অস্থায়ী পশুর হাটে এখন জমে উঠছে কুরবানির পশুর বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি ও ব্যাপারীরা গরু নিয়ে এসেছেন এখানে। এখনো ট্রাকে করে নতুন নতুন পশু আসছে। সড়কপথের পাশাপাশি এবার রেলপথেও বিপুল পরিমাণ পশু কমলাপুরে এসেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকযোগে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা।

পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। গত দুই দিন ক্রেতার সমাগম কম দেখা গেলেও সময় যত ঘনিয়ে আসছে, পশুর হাটে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। সোমবার সকাল থেকে ক্রেতা কম থাকলেও সময় যত গড়াচ্ছে ততই ক্রেতা বাড়ছে। হাটসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের শুরুর দিকে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও গত দুই দিন ধরে বেচাকেনা জমে উঠেছে। অনেকেই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে এখনই পছন্দের পশু কিনতে হাটে আসছেন। গতকাল সোমবার কমলাপুর পশুর হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকলেও বড় গরুও কিনছেন অনেকে। আবার অনেকে খুঁজছেন ছোট গরু। গরু কিনতে আসা ক্রেতা হাফিজুল বলেন, এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। এখনো কিনতে পারিনি। এই হাটে কিনতে না পারলে কাল আরেক হাটে দেখতে হবে। কালকের মধ্যেই কিনে ফেলব। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিক্রেতা ও খামারিদের মধ্যে ভালো দাম পাওয়ার আশা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে। দেশের সীমান্তঘেঁষা হাটগুলো বন্ধ থাকা এবং ভারত ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে পশুর প্রবেশ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাজার এখন পুরোপুরি দেশীয় পশুর ওপর নির্ভরশীল। গত বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে দেশের কিছু বড় খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এবার বাজারে পশুর অতিরিক্ত কৃত্রিম চাপ নেই। ময়মনসিংহ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি করেছি। এখন মানুষ আসছে আর দেখে যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ গরু কিনবে কাল ও আগের দিন। গতবার ১৬টি গরু এনেছিলাম। সব বিক্রি হয়েছিল। এবারও হবে আশা করছি।

হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ঈদের আগের দুই দিনে হাটে সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। হাসিলঘরের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল বলেন, এবার গরুপ্রতি শতকরা ৫ টাকা হারে নেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে খুব বেশি ক্রেতা ছিল না। বৃষ্টির কারণে অনেক ক্রেতাই আসতে পারেননি। এখন বিকেল যত গড়াচ্ছে, আমাদের চাপ ততই বাড়ছে। কাল (মঙ্গলবার) সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রি হবে বলে আমরা আশা করছি।

ঈদযাত্রায় বাড়বে হামের সংক্রমণ

আনন্দ বিষাদে পরিণত হওয়ার

শঙ্কায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

# একদিনে আরও ১৭ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার

কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না হাম সংক্রমণ। দিন দিন সংক্রমণ ও লাশের সারি বাড়ছে। মনে হচ্ছে মহামারির দিকে যাচ্ছে। এমন সময় ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে মুসলিম জাতি। এই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কোটি কোটি মানুষ দেশের একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছে এবং যাবে। তবে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই যাত্রা সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

ঈদুল আযহার ছুটি শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার থেকে। তবে তার আগে থেকেই ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। এই যাত্রা আগামী বৃহস্পতিবার ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ঈদের আগের তিন-চার দিনে কেবল ঢাকা থেকেই ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ স্থানাস্তরিত হয়।

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভিড়, মানুষের ব্যাপক চলাচল ও শিশুদের সংস্পর্শ বাড়ার কারণে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন ঈদের আনন্দের মধ্যেও এবার বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সতর্ক বাতা হলো সারা দেশে হামের বিস্তার ঘটেছে, ঈদের ছুটির পর সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। যে শিশু এখনো আক্রান্ত হয়নি, সে যদি এমন এলাকায় যায়, যেখানে আগে থেকেই হাম ছড়িয়ে আছে, তাহলে আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এসে সেও সংক্রমিত হতে পারে।

এর ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমত, কোনো পরিবার এমন এলাকায় যেতে পারে, যেটি ইতিমধ্যে হামের ‘হটস্পট’। সেখানে গিয়ে সুস্থ শিশুও আক্রান্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত শিশু যদি লক্ষণ নিয়েই ভ্রমণ করে, তাহলে পথে বা গন্তব্যে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা মনে করেন, আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার মতে মা-বাবাকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার সব সময় সহজ নয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুর জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা শরীরে ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ থাকলে তাকে নিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো। একই সঙ্গে ভিড়পূর্ণ পরিবেশ, অপরিচ্ছন্ন স্থান ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি এরই মধ্যে বাতিল করে তাঁদের কর্মস্থল না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে এটা মূল সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বে–নজির আহমদ। বে-নজির আহমদ বলেন, এভাবে চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশ দেওয়াটাই সহজ পন্থা। একটা পরিপত্র জারি করলেই হলো। কিন্তু রোগটা যাতে না ছড়ায়, সেটি নিয়ে তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত নজরদারি বাড়ানো ও শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগে ৩ জন ছাড়াও রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ২ জন করে মোট ৬ জনসহ ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার (২৪ মে) পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৫৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১২৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ৬৪ হাজার ৯৪০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৮ হাজার ৭১৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৫১ হাজার ৫৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাংবাদিক সম্মেলন

কৃষক কার্ড থেকে থার্ড টার্মিনাল সরকারের

১০০ দিনে দৃশ্যমান অগ্রগতি

স্টাফ রিপোর্টার

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রকাঠামো একযোগে লক্ষ্য স্থির করে কাজ করে যাচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে; যার মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত (প্রায় ৬২ শতাংশ) এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, প্রথম মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে দেশজুড়ে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে তিনটি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থায় মাসিক রেমিট্যান্স এরইমধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তাদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিষয়ে বলা হয়, অনার্স (স্নাতক) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে সব শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা এবং পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্প আগামী জুলাই মাসে প্রতিটি উপজেলার একাধিক স্কুলে একযোগে শুরু হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী মাস থেকে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ (নতুন উদ্যোগ তহবিল) কার্যকর হবে। এছাড়া দেশের প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র।

আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে শিশু রামিসা হত্যাচেষ্টার দ্রুত চার্জশিট দাখিল, মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদ-ের রায় এবং এক দশক পর তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বীরদের আইনি সুরক্ষা দিতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে। আহত শতাধিক যোদ্ধাকে রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর (অর্থনৈতিক অঞ্চল) এবং আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল (তৃতীয় ভবন) উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক (বৈদ্যুতিক) বাস চালুর উদ্যোগ এবং মেট্রোরেল ও ট্রেনে প্রবীণ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় আজ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার স্থাপন করা হয়েছে, যা ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা নজরদারিতে রাখছে। পাশাপাশি সীমান্তে ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর (খনি শনাক্তকারী) স্থাপনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টে পূর্বের ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভিভিআইপি (গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রটোকলের গ-ি ভেঙে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছাচ্ছেন, যা মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিবে এডিবি

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এডিবি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ ও এডিবি’র দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মোট ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চারটি ঋণ চুক্তির জন্য এডিবিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের মধ্যেও এ ধরনের সহায়তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংস্কার কার্যক্রম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাক্ষরিত ১ বিলিয়িন ডলারের বাজেট সহায়তা দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ এৎববহ ধহফ জবংরষরবহঃ টৎনধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়লবপঃ নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নত নাগরিক সেবা এবং পরিবেশবান্ধব নগর অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে মত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এডিবি’র সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচি ও প্রকল্পসমূহ সরকারের সেই উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা-দক্ষিণ-পূর্ব সমন্বিত গ্রোথ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন সমীক্ষায় এডিবি’র কারিগরি সহায়তার জন্য এডিবিকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এই উদ্যোগ দেশের উৎপাদন, লজিস্টিকস, শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।

এডিবি’র প্রেসিডেন্ট আগামী পাঁচ বছরে এ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বছরভিত্তিক ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন এবং সমপরিমাণ সহ-অর্থায়ন সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করবে মর্মে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। আগামী ২০ বছরে এই কার্যক্রমে প্রায় ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এর অর্থায়ন পরিকল্পনা রয়েছে যেখানে পিপিপি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এডিবি’র প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, পুঁজিবাজার সংস্কার ও সক্ষমতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এডিবি ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কারিগরি সহায়তা (ঞবপযহরপধষ অংংরংঃধহপব) প্রদান করবে। এছাড়াও, সরকারের জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে এডিবি সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, আঞ্চলিক সংযোগ, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

এডিবি’র প্রেসিডেন্ট বর্তমান সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এডিবি’র অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এর সচিব মোঃ শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বাংলাদেশ সরকার ও এডিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানে হতাহতের ঘটনায় শোক

এদিকে পাকিস্তানের কোয়েটায় ভয়াবহ বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি শোক এবং আন্তরিক সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান এবং এই কঠিন সময়ে পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। রোববার পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় জাফর এক্সপ্রেসের একটি শাটল ট্রেনকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে কোয়েটা সেনানিবাস থেকে ট্রেনটি রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। নারী ও শিশুসহ গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৮২ জন।

নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ

* সড়ক রেল নৌপথে বাড়তি চাপ

* গাজীপুরের দুই মহাসড়কে যানবাহনে ধীরগতি

* কমলাপুরে মানুষের ঢল, স্বস্তিতে ট্রেনযাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল আযহার বাকি মাত্র একদিন। ঈদকে সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। গতকাল সোমবার বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় একদিন আগে গ্রামে ফিরতে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। বাস, ট্রাক, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে গাজীপুরসহ রাজধানী ছাড়ছেন তারা। এতে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, পানিবদ্ধতার কারণে বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়েছে। এছাড়া হাঁটু পানিতে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। তবে যানজট নিরসনে তারা তৎপর রয়েছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সাইরেন বাজিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক লঞ্চ। যাত্রাপথে তুলনামূলক কম ভোগান্তি হওয়ায় এখনও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে নৌপথই সবচেয়ে পছন্দের। ফলে সদরঘাটে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। জুয়েল নামে বরিশালগামী এক যাত্রী বলেন, বৃষ্টি থাকলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। লঞ্চে একটু ভিড় আছে, তারপরও নৌপথে যাওয়া আরামদায়ক। শুভ নামে আরেক যাত্রী বলেন, সারা বছর কাজের জন্য ঢাকায় থাকি। ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। মনির নামে এক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তায় জ্যাম আছে, কিন্তু এবার আগের চেয়ে কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে। আশা করছি রাতের মধ্যেই পৌঁছে যাব। সড়ক ও নৌপথের পাশাপাশি রেলস্টেশনগুলোতেও ছিল অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছামাত্র হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেক ট্রেনের বগিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককে ট্রেনের ছাদেও উঠতে দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গগামী অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকায় কিছুটা স্বস্তিও প্রকাশ করেন অনেকে। রুবেল নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ট্রেন দেরি করছে, কিন্তু অন্তত টিকিট পেয়েছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারলেই কষ্ট ভুলে যাব। আনোয়ার নামে এক যাত্রী বলেন, ভিড় অনেক বেশি। দাঁড়িয়ে যেতে হলেও বাড়ি যেতে পারছি, এটাই বড় কথা। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে সড়ক, রেলস্টেশন ও নৌপথে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাত্রাপথে ভোগান্তি থাকলেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দই এখন ঘরমুখো মানুষের প্রধান স্বস্তি।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার, গাজীপুরা, টঙ্গীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গাড়ির ধীরগতি দেখা গেছে। তবে দুপুরের পর ঘণ্টাখানিক বৃষ্টিপাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে এসব পয়েন্ট দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। এছাড়া বেশ কিছু গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে গাজীপুরা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়েও গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। যাত্রী ও চালকরা বলছেন, বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। চান্দনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং থাকায় লেন সরু হয়ে গেছে। এছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় গাড়ি ও মানুষের জটলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। ফলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের বেশি সময় লাগছে। বলাকা পরিবহনের চালক মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ঢাকা থেকে চান্দনা চৌরাস্তায় আসতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমা ছাড়াও গাড়িগুলো এলোমেলো পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করায় গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চালাতে পারছি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের ৫ হাজার ৬০০ কারখানার মধ্যে ৪৫ ভাগ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা রয়েছে। বাকি কারখানায় আগামীকাল ছুটি দেওয়া হবে। সোমবার দুপুরে ছুটির পর দলবেঁধে শ্রমিকদের গ্রামের বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। অনেক শ্রমিক আগে থেকেই রিজার্ভ বাস নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ গন্তব্যে যাচ্ছেন। এছাড়া নি¤œ আয়ের অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছেন। দুপুরের বৃষ্টিতে ভিজে তাদের নাকাল হতে হয়েছে। শ্রমিক গোলাম রসুল বলেন, ঈদে যেকোনো উপায়ে বাড়ি ফিরতে হবে। এজন্য ট্রাকে চড়েছি, ভাড়া একটু কম। রাজশাহীর বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার ডিউটি শেষে আমাদের কারখানা ছুটি হয়েছে। ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে সকালে রওনা হয়েছি। এখনো রাস্তায় তেমন যানজট পাইনি। তবে দুপুরের পর মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে মাঠে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। সোমবার অনেক কারখানা ছুটি হয়েছে, দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। এই চাপ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত থাকবে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে পানি জমায় চালকরা স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালাতে পারছেন না। তবে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে তৎপর রয়েছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক সদস্য কাজ করছেন।

কমলাপুরে মানুষের ঢল

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ভোর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে ভিড় করছেন যাত্রীরা। সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঈদে বাড়ি ফিরছি, এজন্য খুব ভালো লাগছে। এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে। ট্রেনে ভ্রমণও বেশ আরামদায়ক। একই ট্রেনের যাত্রী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি চুয়াডাঙ্গা যাচ্ছি। সড়কপথে অনেক সময় দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। সে তুলনায় ট্রেনযাত্রা অনেক আরামদায়ক ও নিরাপদ। এজন্য আগেই অনলাইনে টিকিট কেটেছিলাম। আজ গ্রামে যাচ্ছি, যাত্রীর চাপ বেশি হলেও সবার সঙ্গে একসঙ্গে বাড়ি ফিরতে ভালো লাগছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের কমিউটার ট্রেনের টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র, বিশেষ করে উৎসব ও ছুটির সময়। অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত টিকিট নিশ্চিত করতে ভোর থেকেই স্টেশনের কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন যাত্রীরা। অনলাইন বুকিংয়ের সীমিত সুযোগ, কাউন্টারে টিকিটের অতিরিক্ত চাপ এবং যাত্রীর তুলনায় আসনসংখ্যা কম হওয়ায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতি তিনটি টিকিটের বিপরীতে একটি আসন বরাদ্দ থাকে। বাকি দুটি টিকিট ‘স্ট্যান্ডিং’ হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ তিনজন যাত্রী টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করতে পারলেও বসার সুযোগ পান মাত্র একজন, আর অন্য দুইজনকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কমিউটার ট্রেনের যাত্রীদের। এদিকে ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের ফিরতি টিকিটও অনলাইনে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার পাওয়া যাচ্ছে ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট। রেলওয়ের বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩১ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি হয়েছে ২১ মে, ১ জুনের টিকিট বিক্রি হয়েছে ২২ মে। এছাড়া ৩ জুনের যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে ২৪ মে এবং ৪ জুনের টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৫ মে।

আজ পবিত্র হজ্ব

মিয়া হোসেন

“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক্।” লাখ লাখ কণ্ঠের এই ধ্বনিতে আজ মুখরিত হয়ে উঠব্ েআরাফাত ময়দান। তাদের সমবেত কন্ঠে “লাব্বাইক” ধ্বনি আকাশ বাতাসে বিমোহিত হবে। বিঘোষিত হবে মহান আল্লাহর একত্ব ও মহত্বের কথা। কাফনের কাপড়ের মতো সাদা দু’টুকরো ইহরামের কাপড় পরে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়বে আল্লাহর বান্দাহগণ। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড ইমাম হাজীদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করবেন। আল্লাহ তায়ালা এবং বান্দার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের অনন্য আবহে বিরাজ করবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্য।

জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার ফজরের নামায মিনায় আদায় করার পর হাজীগণ ইহরাম বাঁধা অবস্থায় আরাফাত ময়দানে এসে অবস্থান গ্রহণ করবেন। অবশ্য অনেকে গত রাতেই আরাফার তাবুতে চলে এসেছেন। এই আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়েই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। লাখো মানুষের উদ্দেশে প্রদত্ত এই ভাষণের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছিল দ্বীনের পরিপূর্ণতা লাভের। আজো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভাষণ দেয়া হয়। ভাষণে গোটা বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। আর হাজীগণ এক আবেগঘন পরিবেশে মহান আল্লাহর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়ার মন-মানসিকতা নিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন। তারা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, নিজের পরিবার পরিজন, সমাজ ও রাষ্ট্রের সুখ শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

বাংলাদেশে আজ ৮ জিলহজ্ব হলেও সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ্ব। গতকাল সারাদিন ও রাতে হাজীগণ মিনায় অবস্থান করেছেন। আজ ফজরের নাম ায মিনায় আদায় করার পর আরাফার ময়দানে হাজীগণ অবস্থান করবেন। এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকতে হবে। সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার উদ্দেশে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা’র নামায এশা’র ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামায পড়ে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ৯ মাইল পূর্বদিকে একটি পাহাড়ের নাম ‘জাবালুর রহমত’ বা রহমতের পাহাড়। এই পাহাড় সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রলম্বিত বিরাট প্রান্তরটি আরাফাত প্রান্তর নামে পরিচিত। পাহাড়টি মধ্যম আকৃতির এবং গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত। এর উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট। এই পাহাড়ের পূর্বদিকে প্রস্তরের সিঁড়ি রয়েছে। এর ষষ্ঠ ধাপের উচ্চতা বরাবর আগে একটি উন্নত মঞ্চ ও একটি মিম্বর ছিল। এই মিম্বরে দাঁড়িয়ে প্রতি বছর ৯ জিলহজ্ব আরাফার দিন ইমাম সাহেব খুতবা প্রদান করতেন। এখন আর সেই মঞ্চ ও মিম্বার নেই এবং এখান হতে হজ্বের খুতবাও প্রদান করা হয় না। বরং এখন খুতবা দেয়া হয় মসজিদে নামিরা হতে। এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামায আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। শরিয়তের বিধানানুসারে আরাফাতে অবস্থান করাই হজ¦।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর মাত্র ১ দিন হাজীরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। তখন তাদের পরনে থাকে কাফনের কাপড়ের মতো সেলাইবিহীন সাদা দুই টুকরো কাপড়। হাজীরা আরাফারাতের ময়দানে অবস্থানকালে উচ্চস্বরে লাব্বাইকা পাঠ করেন, যদি সম্ভব হয় হজ্বের খুতবা শ্রবণ করেন। যোহর ও আছরের নামায একত্রে এবং মাগরিব ও এশা’র নামাযও একত্রে আদায় করেন, আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করেন, কুরআন তেলাওয়াত, দরূদ ও সালাম প্রেরণ এবং ইহ ও পরকালের কল্যাণ কামনায় অবস্থানকালটি অতিবাহিত করেন।

হযরত আবদুর রহমান বিন ইয়ামার আদ-দায়লি (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আরাফাই তো হজ্ব।” ইমাম শাওকানী (রহ.) এ কথার ব্যাখ্যায় বলেছেন, “যে ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট দিনে উক্ত ময়দানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য অর্জন করল তার হজ্ব হয়ে গেল।” ইমাম তিরমিযী (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আরাফাত ময়দানে অবস্থান করার ভাগ্য যার হয়নি তার হজ্ব বাতিল হয়ে যাবে।”

বুখারী ও মুসলিমের এক হাদীসে উল্লেখ রয়েছে- হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো কোন আমল অধিক উত্তম। তিনি বললেন, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোনটি? জবাব দিলেন আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোনটি? উত্তর দিলেন, মকবুল হজ্ব। অন্য হাদীস : হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্ব করল এবং স্ত্রী সম্ভোগ ও কবিরা গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে মাতৃগর্ভ থেকে সদ্যপ্রসূতের মতো নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করল। বুখারী।

আরও বর্ণিত হয়েছে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমরা হজ্ব ও ওমরাহ পরপর আদায় কর, কেননা এ দু’টি কাজ দারিদ্র্য ও গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যেমন রেত লোহার মরিচা এবং সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে দেয়। আর কবুল হওয়া হজ্বের সাওয়াব জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমদ।

পবিত্র হজ্বের দিনে হাজিদের নির্বিঘেœ হজ্বব্রত পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। ইতোমধ্যে হজ্ব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সিভিল ডিফেন্স কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী, ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক এবং মিডিয়া কর্মীদের নিয়োগ দেয়াসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামে বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে পবিত্র হজের খুতবা চলতি বছরও বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবা শুনতে পারবেন বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরা। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সির অধীনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে এবার বাংলা অনুবাদ দলের দায়িত্ব পালন করবেন চার বাংলাদেশি। তারা হলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক এবং নাজমুস সাকিব।

জানা গেছে, অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত চারজনই মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বাংলা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান। তিনি জানান, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবা বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে। অনুবাদ কার্যক্রমে পুরো দল অংশ নিলেও উপস্থাপনায় সাধারণত দুজন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর আগে একাধিকবার হজের খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এ দিন বাংলাদেশসহ আশেপাশের দেশসমূহে উৎসবের ঈদ উদযাপিত হবে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় মুসলমানগণ আনন্দ উৎসব পালন করবে। ঈদের দিন রাজধানীসহ দেশের সকল মুসলমান বিনম্র হৃদয়ে ঈদ-উল-আযহার নামায আদায় করবেন এবং নামায শেষে মহান রবের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি দিবেন।

আল্লাহর জন্য নিজের জান-মাল ও প্রিয়তম জিনিস সন্তুষ্টচিত্তে বিলিয়ে দেয়ার এক সুমহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর ঈদ-উল-আযহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কুরবানি করা ওয়াজিব। আল কুরআনের সূরা কাউসারে বলা হয়েছে, “অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড় এবং কুরবানি কর।’’ সূরা হজ্জে বলা হয়েছে, “কুরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’’

কুরবানির ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-এর দু’পুত্র হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কুরবানি করেন। এ প্রসঙ্গে সূরা মায়েদায় ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, “আপনি তাদের আদমের দু’পুত্রের বাস্তব অবস্থা পড়ে শোনান। যখন তারা উভয়েই কিছু কুরবানি করেছিল তখন তাদের একজনের কুরবানি কবুল হয়েছিল এবং অপরজনেরটি হয়নি।’’

কুরবানি মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সুন্নাহ। আল্লাহ তাঁর কুদরতী পরিকল্পনায় ইব্রাহীম (আ.)কে তাঁর শেষ বয়সে প্রিয়তম পুত্র ইসমাইল (আ.)কে কুরবানি করার নির্দেশ দেন। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ৮৫ বছর বয়সে হযরত ইসমাইল (আ.)কে পান। এ অবস্থায় ছেলেকে কুরবানি দেয়া এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি তাঁর মহান রবের হুকুমে নত হলেন। নিষ্পাপ পুত্র ইসমাইল (আ.)ও নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। একপর্যায়ে পিতা তাঁর পুত্রকে জবাই করতে যখন উদ্যত ঠিক তখনই মহান আল্লাহর কাছে ঈমানের কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন। চোখ বাঁধা অবস্থায় তিনি জবাই করেন। চোখ খুলে দেখেন তাঁর প্রিয় পুত্র অক্ষত রয়েছে আর কুরবানি হয়েছে একটি চতুষ্পদী দুম্বা।

আল কুরআনে এই মহিমান্বিত ত্যাগের ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম (আ.) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে বললো, হে পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রাহীম (আ.) তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্তু।” হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানরা কুরবানি করে আসছে। তাঁরই নিদর্শন স্বরূপ প্রতি বছর হজ্জ পালনকারীরা কুরবানি দিয়ে থাকেন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, কুরবানির পূর্বশর্ত আল্লাহ ভীতি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাক্সক্ষা। হাদীস শরীফে আছে, ‘মানুষের আমলের প্রতিফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। সূরা হজ্জে বলা হয়েছে, “এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’’ প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কুরবানি দিলো না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ)

জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন একদিন কুরবানি করা যায়। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ শ্রেণীর প্রাণী দ্বারা কুরবানি করা যায়। কুরবানিকৃত পশুর গোশতের একভাগ গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়।

এদিকে ৯ জিলহজ¦ ফযর নামাযের পর থেকে ১৩ জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তালবিয়া পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলো, ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’’

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ঈদ-উল-আযহার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার

শুভেচ্ছা বিরোধীদলীয় নেতার

স্টাফ রিপোর্টার

বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, হযরত ইব্রাহিম (আঃ), তাঁর স্ত্রী হযরত হাজেরা এবং প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের সামনে সমাগত। ঈদুল আযহা আমাদের ত্যাগ ও কুরবানির মহান আদর্শে উজ্জীবিত করে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করার চেতনা জাগ্রত করে। সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরবানির শিক্ষা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তি পালিয়ে গেলেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। তারা বিদেশে অবস্থান করে এবং দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থেকে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ যাতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে না পারে সেজন্য তারা নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যাচ্ছে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ), হযরত হাজেরা এবং হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর মহান ত্যাগের ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁদের সেই ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি আমরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জানমাল ও প্রিয় বস্তু কুরবানি করতে পারি, তবেই আমাদের ত্যাগ ও কুরবানি আল্লাহর নিকট কবুল ও সার্থক হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া কামনা করেন এবং নিজের ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের শুভেচ্ছা: ত্যাগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শোষণমুক্ত ও তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরসহ দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

গতকাল সোমবার এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পশু কুরবানিকে আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন, দ্বীন কায়েমের জন্য জান ও মাল কুরবানিকে আল্লাহ ফরজ করেছেন। ত্যাগ ও কুরবানির প্রেরণা নিয়ে পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে সমাগত। এই ঈদ শুধুমাত্র ত্যাগের চেতনাকেই উজ্জীবিত করে না, সেই সাথে সমাজে অনৈক্য ভুলে গিয়ে পরস্পরের ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বন্ধনকে আরো মজবুত করে। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহর রাহে ত্যাগ ও কুরবানির মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে তার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার জন্যেই আল্লাহ তা’য়ালা মুসলিম মিল্লাতের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত এ কুরবানিকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। যাতে প্রতিটি মুসলমান তার নফসের ওপর বিজয়ী হয়ে নিজের প্রিয় বস্তু, ধন-সম্পদ, চিন্তা-চেতনা আল্লাহর রাহে কুরবানি করে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা অর্জন করতে পারে। কুরবানির মূল শিক্ষাই হলো নিজের অহংবোধকে বিসর্জন দেওয়া এবং সেই সাথে আল্লাহর দেওয়া বিধি-নিষেধ পালন করে পরিপূর্ণ তাকওয়াবান মুমিন হওয়া।

পশু কুরবানির মতোই ইকামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইকামতে দ্বীন বলতে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের ফরজ বিধানগুলো প্রতিষ্ঠা করা এবং তা মেনে চলা। ইকামতে দ্বীন শুধুমাত্র কালেমা, নামায, রোজা, হজ্ব ও যাকাতকেই বোঝায় না। এটির চূড়ান্ত রূপ ও পরিপূর্ণ বিকাশ হচ্ছে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, কুরআনের বিধান প্রবর্তন করা। তাই নতুন বাংলাদেশে ইকাামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় দলমত-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন- “বলুন, আমার নামায, আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে”। তাই ঈদুল আযহা আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয়। আমরা যদি বাস্তব জীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি, তাহলেই কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হবে। নেতৃবৃন্দ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই সাথে নেতৃবৃন্দ আবারো ঢাকা মহানগরীসহ দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানান এবং সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রেখে স্বাস্থ্য সচেতনতার সাথে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল আযহা উদযাপন করতে অনুরোধ করেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুখী, সমৃদ্ধ, অপরাধ ও বৈষম্যমুক্ত ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক শুভেচ্ছা বাণীতে তারা গতকাল এসব কথা বলেন।

মহানগরী নেতৃদ্বয় বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিন। বস্তুত, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ পালনার্থে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.) স্বীয় পুত্র হযরত ঈসমাইল (আ.)কে কুরবানি করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। সে আদর্শ অনুসরণেই মুসলিম উম্মাহ দিবসটিকে পবিত্র ঈদুল আযহা হিসাবে পালন করে আসছে। মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য, তার প্রকৃত সন্তুষ্টি ও মানবকল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগই ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা। আর নিজের প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপই পশু কুরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে কালামে হাকীমে বলা হয়েছে, ‘কুরবানির পশুর রক্ত; গোশত কোন কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি’ (সুরা হজ্জ, আয়াত-৩৭)। তাই কুরবানির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মগঠন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আর্ত- মানবতার মুক্তির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তারা বলেন, জাগতিক লোভ-লালসা ও কামনা-বাসনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে পশুপ্রবৃত্তির ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও বিজয় অর্জনই ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা। অন্যায়-অসত্য, অনাচার-পাপাচার, হিংসা-বিদ্বেষ, জুলুম-নির্যাতন, বিভেদ-বিসংবাদ বন্ধ করে সমাজ-রাষ্ট্রে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ সাধন করা পবিত্র ঈদুল আযহার উদ্দেশ্য। কুরবানি হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণময় নিদর্শন। সে কল্যাণকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোই মোমিন জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

তারা আরো বলেন, সরকারের নির্লিপ্ততা ও উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণেই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ফলে দেশে অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সে ধারাবাহিকতায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশের পবিত্র জমিনকে কলঙ্কিত ও রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাই এ দুর্বৃত্তের অনতিবিলম্বে বিচার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি কুরবানির শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা; হত্যা, ধর্ষণ ও দুর্নীতিসহ সকল প্রকার অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা ও আন্তরিক মোবারকবাদ জ্ঞাপন করেন।

মাওলানা হাবিবুর রহমানের ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেট-১ আসন (মহানগর ও সদর) এর বাসিন্দা ও সর্বস্তরের সিলেটবাসীকে শুভেচ্ছা ঈদ মুবারক জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।

এক শুভেচ্ছা বার্র্তায় তিনি বলেন, ত্যাগের সুমহান মহিমা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আযহা। এবছর আমরা এমন সময় ঈদ উদযাপন করছি যখন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। দেশে চুরি ছিনতাই খুন রাহাজানি চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। ছোট্ট শিশুরা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্রের সকল সেক্টরে নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে সরকার পতিত ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটঁছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এটা প্রত্যাশিত ছিল না। পবিত্র ঈদুল আযহার কুরবানির ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারসহ সবাই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শপথ নিবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি। ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যায়দীপ্ত কাফেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় আর্তমানবতার কল্যাণে ছিল আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ। সামর্থ্যবানদের উচিত ঈদ আনন্দে অসহায় মানুষের কল্যাণে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা। যাতে তারাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে।

পবিত্র ঈদুল আযহায় আল্লাহর নামে প্রিয় পশু কুরবানির মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ত্যাগের নজির স্থাপনের শিক্ষা নিতে হবে। ব্যক্তিগত, সমাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ কে

কোথায় ঈদ করবেন

স্টাফ রিপোর্টার

বিরোধীদলীয় নেতা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান পবিত্র হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বিধায় তিনি সেখানেই পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন।

নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি ঢাকায়, নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি ঢাকায়, নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি ঢাকায়, নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় নিজ গ্রামে ঈদ উদযাপন করবেন।

এছাড়া সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী নিজ গ্রামে, এডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে ঈদ উদযাপন করবেন।

জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট

বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে রাজধানীর কুরবানির পশুর হাটগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর হাঁকডাক, দরদাম আর মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে হাটগুলো।

রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এবার মোট ২৭টি পশুর হাট বসেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও পরিচিত গাবতলী পশুর হাট অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী হাট-কমলাপুর অস্থায়ী পশুর হাট।

সরেজমিন দেখা দেখা গেছে, গতকাল সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক কোলাহল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ এসে পৌঁছাচ্ছে হাটে। কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুমিল্লা, নওগাঁ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা তাদের পশু নিয়ে রাজধানীর বাজারে এসেছেন ভালো দামের আশায়। হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু কিনে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ শুধু হাটের পরিবেশ উপভোগ করতেও আসছেন। ক্রেতারা জানান, কয়েক দফা দরদামের পর তুলনামূলক সহনীয় দামে পশু পাওয়া গেলেও বড় আকারের গরুর দাম এখনও বেশ চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর খামারিদের আনা পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে নানা দামের পশু পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঈদের আগের শেষ দুই দিনেই সবচেয়ে বেশি বিক্রির আশা করছেন তারা। শাহজাহানপুর হাটে আগত রাইসুল নামের এক খামারি বাসসকে বলেন, খাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই কিছুটা বেশি দাম চাইতেই হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের সাধ্যের কথাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এদিকে হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জাল টাকার ব্যবহার ঠেকাতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর প্রতিটি বড় হাটে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক স্থাপন করেছে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ ও টাকা গণনার মেশিন। অনেক ব্যাংক মাত্র পাঁচ মিনিটে হিসাব খোলার সুবিধাও দিচ্ছে পশু ব্যবসায়ীদের। কুরবানির পশুর বাজার পরিদর্শনে এসে মৎস প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে এবার কুরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লক্ষাধিক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

ডিএসসিসির আওতাধীন অস্থায়ী হাটগুলো বসেছে- পোস্তগোলা, শাহজাহানপুর, রহমতগঞ্জ, আমুলিয়া, শ্যামপুর, আফতাবনগর, কাজলা-মাতুয়াইল এলাকা, দয়াগঞ্জ-জুরাইন, বনশ্রী, গোলাপবাগসহ বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে ডিএনসিসির অধীনে মিরপুর, কালশী, বছিলা, উত্তরা দিয়াবাড়ি, ভাটারা, বাড্ডা, মহাখালী ও বসুন্ধরা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বসেছে অস্থায়ী পশুর হাট। রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে এখন যেন এক ভিন্ন আবহ। ক্রেতাদের দরদাম, বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর কুরবানির প্রস্তুতিতে নগরজীবনে যোগ হয়েছে ঈদের আমেজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে হাটের প্রাণচাঞ্চল্য ও কেনাবেচার গতি।

এদিকে, মুগদা বিশ্বরোড, মানিকনগর টিটিপাড়া স্টেডিয়াম, আন্ডারপাস হয়ে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছন পর্যন্ত বিস্তৃত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর অস্থায়ী পশুর হাটে এখন জমে উঠছে কুরবানির পশুর বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি ও ব্যাপারীরা গরু নিয়ে এসেছেন এখানে। এখনো ট্রাকে করে নতুন নতুন পশু আসছে। সড়কপথের পাশাপাশি এবার রেলপথেও বিপুল পরিমাণ পশু কমলাপুরে এসেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকযোগে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা।

পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। গত দুই দিন ক্রেতার সমাগম কম দেখা গেলেও সময় যত ঘনিয়ে আসছে, পশুর হাটে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। সোমবার সকাল থেকে ক্রেতা কম থাকলেও সময় যত গড়াচ্ছে ততই ক্রেতা বাড়ছে। হাটসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের শুরুর দিকে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও গত দুই দিন ধরে বেচাকেনা জমে উঠেছে। অনেকেই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে এখনই পছন্দের পশু কিনতে হাটে আসছেন। গতকাল সোমবার কমলাপুর পশুর হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকলেও বড় গরুও কিনছেন অনেকে। আবার অনেকে খুঁজছেন ছোট গরু। গরু কিনতে আসা ক্রেতা হাফিজুল বলেন, এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। এখনো কিনতে পারিনি। এই হাটে কিনতে না পারলে কাল আরেক হাটে দেখতে হবে। কালকের মধ্যেই কিনে ফেলব। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিক্রেতা ও খামারিদের মধ্যে ভালো দাম পাওয়ার আশা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে। দেশের সীমান্তঘেঁষা হাটগুলো বন্ধ থাকা এবং ভারত ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে পশুর প্রবেশ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাজার এখন পুরোপুরি দেশীয় পশুর ওপর নির্ভরশীল। গত বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে দেশের কিছু বড় খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এবার বাজারে পশুর অতিরিক্ত কৃত্রিম চাপ নেই। ময়মনসিংহ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি করেছি। এখন মানুষ আসছে আর দেখে যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ গরু কিনবে কাল ও আগের দিন। গতবার ১৬টি গরু এনেছিলাম। সব বিক্রি হয়েছিল। এবারও হবে আশা করছি।

হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ঈদের আগের দুই দিনে হাটে সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। হাসিলঘরের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল বলেন, এবার গরুপ্রতি শতকরা ৫ টাকা হারে নেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে খুব বেশি ক্রেতা ছিল না। বৃষ্টির কারণে অনেক ক্রেতাই আসতে পারেননি। এখন বিকেল যত গড়াচ্ছে, আমাদের চাপ ততই বাড়ছে। কাল (মঙ্গলবার) সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রি হবে বলে আমরা আশা করছি।

ঈদযাত্রায় বাড়বে হামের সংক্রমণ

আনন্দ বিষাদে পরিণত হওয়ার

শঙ্কায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

# একদিনে আরও ১৭ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার

কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না হাম সংক্রমণ। দিন দিন সংক্রমণ ও লাশের সারি বাড়ছে। মনে হচ্ছে মহামারির দিকে যাচ্ছে। এমন সময় ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে মুসলিম জাতি। এই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কোটি কোটি মানুষ দেশের একস্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছে এবং যাবে। তবে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই যাত্রা সংক্রমণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

ঈদুল আযহার ছুটি শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার থেকে। তবে তার আগে থেকেই ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। এই যাত্রা আগামী বৃহস্পতিবার ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে ঈদের আগের তিন-চার দিনে কেবল ঢাকা থেকেই ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ স্থানাস্তরিত হয়।

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভিড়, মানুষের ব্যাপক চলাচল ও শিশুদের সংস্পর্শ বাড়ার কারণে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন ঈদের আনন্দের মধ্যেও এবার বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সতর্ক বাতা হলো সারা দেশে হামের বিস্তার ঘটেছে, ঈদের ছুটির পর সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। যে শিশু এখনো আক্রান্ত হয়নি, সে যদি এমন এলাকায় যায়, যেখানে আগে থেকেই হাম ছড়িয়ে আছে, তাহলে আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এসে সেও সংক্রমিত হতে পারে।

এর ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমত, কোনো পরিবার এমন এলাকায় যেতে পারে, যেটি ইতিমধ্যে হামের ‘হটস্পট’। সেখানে গিয়ে সুস্থ শিশুও আক্রান্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত শিশু যদি লক্ষণ নিয়েই ভ্রমণ করে, তাহলে পথে বা গন্তব্যে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা মনে করেন, আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার মতে মা-বাবাকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার সব সময় সহজ নয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুর জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা শরীরে ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ থাকলে তাকে নিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো। একই সঙ্গে ভিড়পূর্ণ পরিবেশ, অপরিচ্ছন্ন স্থান ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি এরই মধ্যে বাতিল করে তাঁদের কর্মস্থল না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে এটা মূল সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বে–নজির আহমদ। বে-নজির আহমদ বলেন, এভাবে চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশ দেওয়াটাই সহজ পন্থা। একটা পরিপত্র জারি করলেই হলো। কিন্তু রোগটা যাতে না ছড়ায়, সেটি নিয়ে তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত নজরদারি বাড়ানো ও শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগে ৩ জন ছাড়াও রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ২ জন করে মোট ৬ জনসহ ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার (২৪ মে) পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৫৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১২৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ৬৪ হাজার ৯৪০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৮ হাজার ৭১৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৫১ হাজার ৫৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাংবাদিক সম্মেলন

কৃষক কার্ড থেকে থার্ড টার্মিনাল সরকারের

১০০ দিনে দৃশ্যমান অগ্রগতি

স্টাফ রিপোর্টার

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রকাঠামো একযোগে লক্ষ্য স্থির করে কাজ করে যাচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে; যার মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত (প্রায় ৬২ শতাংশ) এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, প্রথম মাসেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ এবং ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে দেশজুড়ে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া সফলভাবে ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে তিনটি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থায় মাসিক রেমিট্যান্স এরইমধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তাদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিষয়ে বলা হয়, অনার্স (স্নাতক) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে সব শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা এবং পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্প আগামী জুলাই মাসে প্রতিটি উপজেলার একাধিক স্কুলে একযোগে শুরু হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী মাস থেকে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ (নতুন উদ্যোগ তহবিল) কার্যকর হবে। এছাড়া দেশের প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র।

আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে শিশু রামিসা হত্যাচেষ্টার দ্রুত চার্জশিট দাখিল, মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণের মামলায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদ-ের রায় এবং এক দশক পর তনু হত্যা মামলার প্রথম আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বীরদের আইনি সুরক্ষা দিতে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস করা হয়েছে। আহত শতাধিক যোদ্ধাকে রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর (অর্থনৈতিক অঞ্চল) এবং আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল (তৃতীয় ভবন) উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক (বৈদ্যুতিক) বাস চালুর উদ্যোগ এবং মেট্রোরেল ও ট্রেনে প্রবীণ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় আজ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার স্থাপন করা হয়েছে, যা ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা নজরদারিতে রাখছে। পাশাপাশি সীমান্তে ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন ও মাইন ডিটেক্টর (খনি শনাক্তকারী) স্থাপনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টে পূর্বের ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভিভিআইপি (গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রটোকলের গ-ি ভেঙে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছাচ্ছেন, যা মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিবে এডিবি

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এডিবি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ ও এডিবি’র দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মোট ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চারটি ঋণ চুক্তির জন্য এডিবিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের মধ্যেও এ ধরনের সহায়তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংস্কার কার্যক্রম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাক্ষরিত ১ বিলিয়িন ডলারের বাজেট সহায়তা দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়তা করবে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে দেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ এৎববহ ধহফ জবংরষরবহঃ টৎনধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়লবপঃ নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নত নাগরিক সেবা এবং পরিবেশবান্ধব নগর অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে মত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এডিবি’র সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচি ও প্রকল্পসমূহ সরকারের সেই উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা-দক্ষিণ-পূর্ব সমন্বিত গ্রোথ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন সমীক্ষায় এডিবি’র কারিগরি সহায়তার জন্য এডিবিকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এই উদ্যোগ দেশের উৎপাদন, লজিস্টিকস, শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।

এডিবি’র প্রেসিডেন্ট আগামী পাঁচ বছরে এ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বছরভিত্তিক ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন এবং সমপরিমাণ সহ-অর্থায়ন সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করবে মর্মে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। আগামী ২০ বছরে এই কার্যক্রমে প্রায় ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এর অর্থায়ন পরিকল্পনা রয়েছে যেখানে পিপিপি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এডিবি’র প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, পুঁজিবাজার সংস্কার ও সক্ষমতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এডিবি ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কারিগরি সহায়তা (ঞবপযহরপধষ অংংরংঃধহপব) প্রদান করবে। এছাড়াও, সরকারের জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে এডিবি সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, আঞ্চলিক সংযোগ, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

এডিবি’র প্রেসিডেন্ট বর্তমান সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এডিবি’র অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এর সচিব মোঃ শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বাংলাদেশ সরকার ও এডিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানে হতাহতের ঘটনায় শোক

এদিকে পাকিস্তানের কোয়েটায় ভয়াবহ বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি শোক এবং আন্তরিক সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান এবং এই কঠিন সময়ে পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। রোববার পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় জাফর এক্সপ্রেসের একটি শাটল ট্রেনকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে কোয়েটা সেনানিবাস থেকে ট্রেনটি রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। নারী ও শিশুসহ গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৮২ জন।

নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ

* সড়ক রেল নৌপথে বাড়তি চাপ

* গাজীপুরের দুই মহাসড়কে যানবাহনে ধীরগতি

* কমলাপুরে মানুষের ঢল, স্বস্তিতে ট্রেনযাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল আযহার বাকি মাত্র একদিন। ঈদকে সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। গতকাল সোমবার বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় একদিন আগে গ্রামে ফিরতে শুরু করেন কর্মজীবী মানুষ। বাস, ট্রাক, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে গাজীপুরসহ রাজধানী ছাড়ছেন তারা। এতে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, পানিবদ্ধতার কারণে বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়েছে। এছাড়া হাঁটু পানিতে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। তবে যানজট নিরসনে তারা তৎপর রয়েছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সাইরেন বাজিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক লঞ্চ। যাত্রাপথে তুলনামূলক কম ভোগান্তি হওয়ায় এখনও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে নৌপথই সবচেয়ে পছন্দের। ফলে সদরঘাটে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। জুয়েল নামে বরিশালগামী এক যাত্রী বলেন, বৃষ্টি থাকলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। লঞ্চে একটু ভিড় আছে, তারপরও নৌপথে যাওয়া আরামদায়ক। শুভ নামে আরেক যাত্রী বলেন, সারা বছর কাজের জন্য ঢাকায় থাকি। ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। মনির নামে এক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তায় জ্যাম আছে, কিন্তু এবার আগের চেয়ে কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে। আশা করছি রাতের মধ্যেই পৌঁছে যাব। সড়ক ও নৌপথের পাশাপাশি রেলস্টেশনগুলোতেও ছিল অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছামাত্র হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেক ট্রেনের বগিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককে ট্রেনের ছাদেও উঠতে দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গগামী অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকায় কিছুটা স্বস্তিও প্রকাশ করেন অনেকে। রুবেল নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ট্রেন দেরি করছে, কিন্তু অন্তত টিকিট পেয়েছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারলেই কষ্ট ভুলে যাব। আনোয়ার নামে এক যাত্রী বলেন, ভিড় অনেক বেশি। দাঁড়িয়ে যেতে হলেও বাড়ি যেতে পারছি, এটাই বড় কথা। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে সড়ক, রেলস্টেশন ও নৌপথে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাত্রাপথে ভোগান্তি থাকলেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দই এখন ঘরমুখো মানুষের প্রধান স্বস্তি।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার, গাজীপুরা, টঙ্গীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গাড়ির ধীরগতি দেখা গেছে। তবে দুপুরের পর ঘণ্টাখানিক বৃষ্টিপাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে এসব পয়েন্ট দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। এছাড়া বেশ কিছু গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে গাজীপুরা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়েও গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। যাত্রী ও চালকরা বলছেন, বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। চান্দনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং থাকায় লেন সরু হয়ে গেছে। এছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় গাড়ি ও মানুষের জটলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। ফলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের বেশি সময় লাগছে। বলাকা পরিবহনের চালক মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ঢাকা থেকে চান্দনা চৌরাস্তায় আসতে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমা ছাড়াও গাড়িগুলো এলোমেলো পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করায় গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চালাতে পারছি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের ৫ হাজার ৬০০ কারখানার মধ্যে ৪৫ ভাগ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা রয়েছে। বাকি কারখানায় আগামীকাল ছুটি দেওয়া হবে। সোমবার দুপুরে ছুটির পর দলবেঁধে শ্রমিকদের গ্রামের বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। অনেক শ্রমিক আগে থেকেই রিজার্ভ বাস নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ গন্তব্যে যাচ্ছেন। এছাড়া নি¤œ আয়ের অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছেন। দুপুরের বৃষ্টিতে ভিজে তাদের নাকাল হতে হয়েছে। শ্রমিক গোলাম রসুল বলেন, ঈদে যেকোনো উপায়ে বাড়ি ফিরতে হবে। এজন্য ট্রাকে চড়েছি, ভাড়া একটু কম। রাজশাহীর বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার ডিউটি শেষে আমাদের কারখানা ছুটি হয়েছে। ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে সকালে রওনা হয়েছি। এখনো রাস্তায় তেমন যানজট পাইনি। তবে দুপুরের পর মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে মাঠে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। সোমবার অনেক কারখানা ছুটি হয়েছে, দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। এই চাপ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত থাকবে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে পানি জমায় চালকরা স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালাতে পারছেন না। তবে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে তৎপর রয়েছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক সদস্য কাজ করছেন।

কমলাপুরে মানুষের ঢল

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ভোর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে ভিড় করছেন যাত্রীরা। সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঈদে বাড়ি ফিরছি, এজন্য খুব ভালো লাগছে। এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে। ট্রেনে ভ্রমণও বেশ আরামদায়ক। একই ট্রেনের যাত্রী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি চুয়াডাঙ্গা যাচ্ছি। সড়কপথে অনেক সময় দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। সে তুলনায় ট্রেনযাত্রা অনেক আরামদায়ক ও নিরাপদ। এজন্য আগেই অনলাইনে টিকিট কেটেছিলাম। আজ গ্রামে যাচ্ছি, যাত্রীর চাপ বেশি হলেও সবার সঙ্গে একসঙ্গে বাড়ি ফিরতে ভালো লাগছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের কমিউটার ট্রেনের টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র, বিশেষ করে উৎসব ও ছুটির সময়। অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত টিকিট নিশ্চিত করতে ভোর থেকেই স্টেশনের কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন যাত্রীরা। অনলাইন বুকিংয়ের সীমিত সুযোগ, কাউন্টারে টিকিটের অতিরিক্ত চাপ এবং যাত্রীর তুলনায় আসনসংখ্যা কম হওয়ায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতি তিনটি টিকিটের বিপরীতে একটি আসন বরাদ্দ থাকে। বাকি দুটি টিকিট ‘স্ট্যান্ডিং’ হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ তিনজন যাত্রী টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করতে পারলেও বসার সুযোগ পান মাত্র একজন, আর অন্য দুইজনকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কমিউটার ট্রেনের যাত্রীদের। এদিকে ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের ফিরতি টিকিটও অনলাইনে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার পাওয়া যাচ্ছে ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট। রেলওয়ের বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩১ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি হয়েছে ২১ মে, ১ জুনের টিকিট বিক্রি হয়েছে ২২ মে। এছাড়া ৩ জুনের যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে ২৪ মে এবং ৪ জুনের টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৫ মে।